২০১৭ সালের ১৩ ই আগস্ট দুগাপুরের বুকে ঘটে যায় এমন এক ঘটনা যা ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসাবে পরিচিতি লাভ করে , দুর্গাপুর নগর নিগমের নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়. শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের সৌজন্যে সেইদিন শহর জুড়ে গণতন্ত্র ধর্ষিত হয়েছিল। পুরসভার মোট ৪৩ টি ওয়ার্ড কার্যত ছিল দুষ্কৃতীদের দখলে , আগের দিন রাত থেকে শহরের দখল নেয় দুষ্কৃতীরা তাদের আনা হয় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
বিরোধী প্রার্থীদের সমস্ত ফ্লেক্স কার্যত উধাও হয়ে যায় শহর থেকে। শহরের একাদিক সিপিআইএম অফিস ভাঙচুর করে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। দুর্গাপুর ইস্পাত অঞ্চলে শ্রমিক সংগঠনের অফিসের দখল নেওয়া হয় লাল পতাকা নামিয়ে লাগিয়ে দেওয়া হয় তৃণমূলের পতাকা। শহর জুড়ে নেমে আসে দুষ্কৃতীদের তান্ডব। ভোটার আগের দিন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি হুমকি চলে। ভোটার দিন দুর্গাপুর কার্যত দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চল , বাম নেতা নেত্রীদের বাড়িরই সামনে ঘেড়াও দুষ্কৃতীদের পুলিশের ভূমিকা কার্যত নীরব দর্শকের।
ভোটার দিন সমস্ত বুথে চলে যায় দুষ্কৃতীরা যারা এই শহরের ছিলই না , বুথ গুলি দখল নেওয়ার পর ভোট কেন্দ্রের দরজা বন্ধ হয়ে যায়. যায় বা যারা গেছিলেন ভোট দিতে তাদেরকে খালি হাতে ফিরতে হয়. এমনকি শাসক দোলে সমর্থকদের ও হেনস্তার শিকার হতে হয়। বিরোধী প্রার্থীরা জোর করে বুথে ঢুকতে গেলে তাদের উপর রড লাঠি নিয়ে চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। দুপুর ১২ টার মধ্যে বেশির ভাগ বুথের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়ে যায়। সিপিআইএম এর পক্ষ থেকে প্রেস কনফারেন্স করে ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বেশ কিছ জায়গায় বিরোধীদের প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা ছিল যত সামান্য , এমনকি তৃণমূল প্রার্থীদের ও ঢুকতে দেওয়া হয়নি বুথের ত্রিসীমানায়। ভোটার ফলাফল ছিল শাসক দলের কাছে প্রত্যাশিত ৪৩ - ০ করে দুর্গাপুর নগর নিগমে প্রবেশ করে শাসক তৃণমূলের কাউন্সিলর রা। পরের দিন দুর্গাপুরের ব্যাপক প্রতিবাদ গড়ে তোলে বামফ্রন্ট জাতীয় সড়ক অবরোধে হয় বেশ কিছুক্ষন ধরে। পুর বোর্ডের বিরুদ্ধে অনবরত লড়াইয়ে ছিল সিপিআইএম। প্রতিবছর এই দিনে তারা বিক্ষোভ সংগঠিত করে দুর্গাপুর নগর নিগমের সামনে এমনকি কবিদের সময়ে তার ব্যতিক্রম ছিল না।
এবারেও তারা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেছে , এবারের বিষয় টি একটু আলাদা কেন্দ্রীয় ভাবে কর্মসূচি না করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছে, পুর বোর্ডের মেয়াদ উতীর্ণ অবিলম্বে পুর ভোটের দাবিতে এলাকায় প্রতিবাদ সংগঠিত করছে সিপিআইএম। শহরের গণতন্ত্র পুনুরুদ্ধারের দাবির পাশাপাশি শহর গড়ার ডাক তাদের। প্রতিবছর এই দিনটি দুর্গাপুর বাসীদের কাছে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।


