দুর্গাপুর, ৫ আগস্ট: ভারতের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী ও দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুজাফফর আহমেদের ১৩৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিটি সেন্টারের এন বি এ অফিসে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন দুর্গাপুরের বর্ষীয়ান বাম নেতা ও শহরের প্রাক্তন মেয়র রথিন রায়, সিপিআইএম পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি এবং বাম নেতা বিপ্রেন্দু চক্রবর্তী।
বক্তারা বলেন, মুজাফফর আহমেদ ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি একজন সফল রাজনীতিবিদ, একজন সমাজকর্মী এবং একজন সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।যিনি ভেবেছিলেন কমিউনিস্ট আন্দোলন গড়ে তোলার আগে প্রয়োজন সমাজ ও দেশকে নিবিড় ভাবে অধ্যয়ন জরুরি, সেই সঙ্গে শোষণের বিভিন্ন আঙ্গিক কে বোঝা।সেই জন্য তিনি বিশেষ ভাবে মার্কসীয় সাহিত্য এর প্রচারে জোর দিয়েছিলেন সেই সঙ্গে দেশের মুক্তি আন্দোলনেও নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।
বক্তারা আরও বলেন, মুজাফফর আহমেদ ছিলেন একজন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ। তিনি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের একজন ধার্মিক ছিলেন। তিনি ধর্মনিরপেক্ষতাকে ভারতের অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য বলে মনে করতেন।
বর্তমান সময়ে পার্টির কৌশলগত দিক ও তুলে ধরেন ।দেশের সংবিধান আক্রান্ত সেই লক্ষ্যে দেশের ধর্ম নিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখতে নিরন্তর সংগ্রামের উপর জোর দেন বক্তারা।দেশ জুড়ে মানুষের ঐক্য গঠনের ক্ষেত্রে কমিউনিস্ট পার্টি কাজ করবে কোনোরকম আপোষ না করেই।রাজ্যে তৃণমূল যখন গণতন্ত্রের কাঠামো ধ্বংস করে মানুষের অধিকার হরণ করছে ,অন্যদিকে দেশে বিভাজনের নীতিকে কায়েম করছে বিজেপি।এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করবে সিপিআইএম তা আরেকবার মনে করিয়ে দেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, মুজাফফর আহমেদের আদর্শ আমাদের অনুসরণ করা উচিত। আমরা তার আদর্শ অনুসরণ করে একটি সমাজ গড়ে তুলতে পারি যেখানে সবাই সমান হবে। আমরা তার আদর্শ অনুসরণ করে একটি দেশ গড়ে তুলতে পারি যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা থাকবে।
সভা মুজাফফর আহমেদের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।