" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory গণহিস্টিরিয়া সমাজে দাগ কাটে তবে স্থায়ী হয় না //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

গণহিস্টিরিয়া সমাজে দাগ কাটে তবে স্থায়ী হয় না

 


⚫ নীল জল ভরা বোতল টাঙ্গানোর হিড়িকে এক সময় গোটা জঙ্গলমহল মেতে উঠেছিল। সেই সময় নাকি এক ধরনের ভূতের আমদানি হয়েছিল। জঙ্গলমহলে পিঁয়াজ ভূত। যেন ত্রাহি ত্রাহি গা ছম ছম। শহর দিকে নাকি ওই নীল বোতলের ভয়ে কুকুরের পটি না করার ব্যাখ্যা ছিল। কয়েকদিনের ঝটিকায় ঘরে ঘরে দরজার সামনে নীল বোতল টাঙ্গানোর সে কি তোড়জোড়! তারপর এখন সেই নীল বোতলও নেই, আর  পিঁয়াজ ভূতও নেই। সব বেপাত্তা!


⚫ এক বেটার মা, দু বেটার মায়ের কাছে গিয়ে ভিক্ষা করবে। সেই ভিক্ষার সামগ্রী সব রাইপুরের মহামায়ার থানে নিয়ে গিয়ে পৌঁছাবে, পুজো দেবে। নইলে এক বেটার মায়ের সমূহ বিপদ! নাকি স্বপ্নাদেশ এসেছিল! অনেকেই একযোগে স্বপ্ন দেখতেও শুরু করেছিল! এমনই গণ হিষ্টিরিয়া যে, সকাল হলেই দলে দলে ভিজে কাপড়ে, খালি পায়ে, মাইলের পর মাইল হেঁটে হাজার হাজার এক বেটার মায়েরা পুজো দিতে হামলে পড়েছিল। ঘটনা সাত/আট বছর আগের। এখন সে সব উধাও!


⚫  বছর কুড়ি বাইশ আগে পোস্টকার্ডে কিংবা ইনল্যান্ড লেটারএ সন্তোষী মাতার নামে চিঠি আসতো। সেই চিঠিতে সন্তোষী মায়ের নানার গুণের কথা লেখা থাকতো। ঐ রকম চিঠি আরো কুড়ি জন বন্ধুবান্ধবকে ডাকযোগে পাঠানোর নিদান থাকতো। না করলে অমঙ্গল, চরম ক্ষতি হওয়ার হুঁশিয়ারির সঙ্গে চিঠি দিতে পারলে লাভবান হওয়ার হাতছানি থাকতো। সে কি চিঠি লেখার হিড়িক! হেন্তসেন্ত ডাক পিওনদের হাতে তখন গোছা গোছা চিঠির তাড়া। এখন সেই চিঠিও নেই, সন্তোষী মা'ও হাওয়া!


⚫  জঙ্গলমহলজুড়ে আরও একটা হিস্টিরিয়া এখনও বছর কয়েক ধরে চলছে। তা হল ঘরে ঘরে কার্তিক ঠাকুর ফেলার হিড়িক! ফেলে দেওয়া কার্তিকঠাকুর ঘরে ঢোকালে নতুন বিয়ে কিংবা পুত্র সন্তানহীন দম্পতিদের পরিবারে নাকি কার্তিক ঠাকুরের মতো পুত্র সন্তানের আগমন ঘটবে! ব্যাস, কার্তিকের সিজিন এলেই ফটাফট্ কার্তিক ঠাকুর পড়ছে, আর স্যাটাস্যাট পূজা শুরু হয়ে যাচ্ছে। বিটির বাপের মোটা অঙ্কের বাজেট, খাওন-দাওন আর পুরোহিতদের পোয়াবারো! জঙ্গলমহলে এখনও হুজুগটা আছে তবে ছেদনও শুরু হয়ে গেছে।


⚫অযোধ্যার মন্দির এবং রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠাকে নিয়েও গণহিস্টিরিয়া তৈরি করার প্রক্রিয়া চলছে। এখানে বাড়তি মাত্রা যোগ হয়েছে সাধুসন্ত সাধারণ মানুষের সাথে সরকার, রাজনৈতিক দল এবং মিডিয়া একাকার হয়েছে। এটা একটা লম্বা চৌড়া গণহিস্টিরিয়া হলেও এটাও স্থায়িত্ব লাভ করবে না। কারন ২৩তারিখের পর থেকে কিন্তু দিন আগের মতোই চলবে। খিদে আগের মতোই লাগবে, শ্রমিকের ঘামের রঙ বদলাবে না, জিনিসপত্রের দামে পরিবর্তন হবে না। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অন্ন বস্ত্র বাসস্থান শিল্প কারখানা কর্মসংস্থানের প্রশ্নগুলি উঠে আসবেই। আসতেই হবে। অভিজ্ঞতার কারণেই আসবে। পেটে টান পড়লেই আসবে। কারণ ধর্মে পেট ভরবে না।


⚫ প্রায় দেড়'হাজার বছর আগে হিউয়েন সাং নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে গোটা ভারতবর্ষে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েছিলেন। প্রত্যক্ষ দর্শনের বিবরণ তিনি লিখে গেছেন। তাঁর ভ্রমণ পথে মধ্য ভারতের কোন এক জায়গায় পাথরের উপরে ভারতবাসীদের দুধ ঢালতে দেখে তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। হিউয়েন সাং তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্তে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের আখ্যা দিয়ে ভূয়শি প্রশংসা করলেও আপামর ভারতবাসীর শিক্ষাদীক্ষা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ঘটনা অতীত হলেও দেড়'হাজার বছর পরেও ভারতবর্ষে মধ্যযুগের ঘটনার পরম্পরা রয়েছে, বিস্তার লাভ করছে এবং ডিপলি প্রবেশ করছে।

সত্যিই সেলুকাস! -------

                                      —মধুসূদন_মাহাতো

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies