দুর্গাপুরের সৃজনী হলে ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হলো চাকদহ নাট্যজনের পরিবেশনায় নাটক "মালা ও মলি", যা দর্শকদের হৃদয়ে গভীর দাগ কাটলো। সম্পর্কের টানাপোড়েন, জীবনের কঠিন বাস্তবতা ও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে নির্মিত এই নাটকটি জীবনের গল্পকে একদম নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরেছে।অনুষ্ঠিত হলো দুর্গাপুর মহকুমা স্বেচ্ছায় রক্তদাতা ফোরামের বার্ষিক সাংস্কৃতিক উৎসব।অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি এবং পশ্চিমবঙ্গ স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কবি ঘোষ।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বর্ণাভ সামন্ত মুখ অর্গানে মুগ্ধকর পরিবেশনা উপহার দেন।২০২৫ সালের ক্যালেন্ডার প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মেয়র রথীন রায়, প্রাক্তন সভাধিপতি সুভদ্রা বাউরি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব
।
নাটকের অভিনয় ও পরিবেশনা:
💢 নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে সঞ্জীব সরকারের অভিনয় ছিল অনবদ্য। পুরো নাটক জুড়ে তাঁর উপস্থিতি এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর অভিব্যক্তি ও সংলাপপ্রদানে দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
💢 আরেক মুখ্য চরিত্রে বিন্দিয়া ঘোষের দাপুটে অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
💢 ছোট চরিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও অসাধারণ অভিনয় করেছেন, যা নাটকটিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
💢 নাটকে এমন কোনো তারকা অভিনেতা ছিলেন না, যাঁরা নামেই আলোড়ন তোলেন, কিন্তু সমগ্র দলের উপস্থাপনা এতটাই বাস্তব এবং আবেগপ্রবণ ছিল যে, দর্শকরা নাটকের প্রতিটি মুহূর্তে ডুবে গিয়েছিলেন।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া:
পশ্চিম বর্ধমান জেলার বহু নাট্যপ্রেমী প্রতি বছর দুর্গাপুরে নাটক দেখতে আসেন। তবে "মালা ও মলি" দেখে তাদের অভিজ্ঞতা অন্য যে কোনো বছরের তুলনায় আরও গভীর এবং প্রশংসনীয় বলে তারা জানিয়েছেন। একজন দর্শক বলেন, "পরপর কয়েক বছর ধরে নাটক দেখছি দুর্গাপুরে, কিন্তু এত ভালো লাগা আর কোনো নাটকে অনুভূত হয়নি।"
উপসংহার:
চাকদহ নাট্যজনের এই পরিবেশনা শুধুমাত্র একটি নাটক নয়, বরং জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরা এক শিল্প। তাদের অসাধারণ অভিনয় ও কাহিনীবিন্যাস দুর্গাপুরের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। দর্শক এবং সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে নাট্যদল।
নাটকটি দেখে সকলের একটাই বার্তা, নাটক জীবনের কথা বলে, আর সেই জীবনের কথা "মালা ও মলি" অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।







