সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কূটনৈতিক চক্রান্তের ফলাফল। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল তাদের স্বার্থ রক্ষায় দেশটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিয়ে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে।
তুরস্ক ও ইদলিবের সংকট
ইদলিব প্রদেশ সিরিয়ার সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সন্ত্রাসী সংগঠন ঘাঁটি স্থাপন করেছে। ২০১৯-২০২০ সালে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ইদলিব পুনর্দখলের চেষ্টা করলেও তুরস্ক এতে বাধা দেয়। তুরস্ক, ইদলিবকে একটি "ডি-এস্কেলেশন জোন" ঘোষণা করে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে এবং বিদ্রোহীদের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখে।
উত্তর সিরিয়ায় তুরস্কের প্রভাব
উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পো ও রাক্কার বিভিন্ন অঞ্চল কার্যত তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে। এই এলাকাগুলোতে তুর্কি ভাষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ সরাসরি তুরস্কের ওপর নির্ভরশীল। তুর্কি মুদ্রা লিরা ব্যবহার এবং তুর্কি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এই অঞ্চলগুলো সিরিয়ার পরিচয় হারানোর পথে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
যুক্তরাষ্ট্র কুর্দি নেতৃত্বাধীন "সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস" (এসডিএফ)-কে সমর্থন দিয়ে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় তাদের প্রভাব বজায় রেখেছে। এই অঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন এবং তাদের অস্ত্র সরবরাহ আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল
সিরিয়ার সরকার, রাশিয়া এবং ইরানের সহায়তায় দেশের কিছু অংশে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলেও, ইদলিব এবং উত্তরাঞ্চলগুলো এখনো বিদেশি শক্তির দখলে। এই অবস্থায় সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ।
উপসংহার
আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর এই খেলায় সিরিয়ার জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এই সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন, নইলে পুরো অঞ্চল একটি বড় ধরনের সংঘাতের দিকে ধাবিত হবে।


