১৯,০০০ শিশু গাজার অপুষ্টিজনিত সংকটে ভুগছে: মানবতার প্রতি এক করুণ আবেদন
গাজা স্ট্রিপ, জুন ২০২৫ — গাজার ধ্বংসস্তূপে ভেসে আসা শিশুদের কান্নার শব্দ যেন এক অশ্রুমাখা চিত্র আঁকে। গত চার মাসে গাজার প্রায় ১৯,০০০ শিশু তীব্র অপুষ্টি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, জানিয়েছে জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (UNRWA)। এই সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটি প্রতিটি শিশুর জীবনের কষ্টের গল্প।
এক প্রজন্মের টিকে থাকার লড়াই
গাজার শিশুদের ক্ষীণ দেহে প্রতিফলিত হচ্ছে এক মানবিক বিপর্যয়ের গভীরতা। পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টির হার এই বছর তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং প্রায় ৬% শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত। উত্তর গাজায়, যেখানে সাহায্য একপ্রকার বন্ধ, পরিবারগুলো বেঁচে থাকার তাগিদে প্রাণঘাতী পন্থা অবলম্বন করছে—পশু খাদ্য খাওয়া, মাটির সাথে মিশ্রিত ময়দা খাওয়া এবং যত্রতত্র খাবারের টুকরো কুড়ানো।
“আমার সন্তানরা প্রতিদিন খালি পেটে ঘুমায়। তাদের ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে গল্প ছাড়া কিছু দিতে পারি না,” গাজার এক মায়ের কণ্ঠ যেন ক্লান্তি আর দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়ে।
ভেঙে পড়া হাসপাতাল ব্যবস্থা
গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা, যা ইতোমধ্যেই ধ্বংসের মুখে, এখন প্রায় ভেঙে পড়েছে। বাকি থাকা হাসপাতালগুলো সরঞ্জাম আর কর্মীর অভাবে হিমশিম খাচ্ছে। তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের সেবা দিতে পারলেও, অনেক কেন্দ্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সতর্ক করেছে যে, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন ধ্বংসের কিনারায়।
“একটি শিশুকে মৃত্যুর মুখে চলে যেতে দেখলাম, কারণ তার জন্য কোনো ফর্মুলা দুধ পাওয়া যায়নি,” জানালেন এক নার্স। “এটি শুধু খাবারের অভাব নয়, এটি আশা হারানোর গল্প।”
অস্ত্র হিসেবে ক্ষুধা
মানবাধিকার সংস্থাগুলো অবরোধকে যুদ্ধের একটি কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মার্চ ২০২৫ সাল থেকে গাজায় খাদ্য, পানি এবং ওষুধ ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সীমান্তে খাদ্যবোঝাই ট্রাকগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও, গাজার পরিবারগুলো খাবারের জন্য বাঁচার লড়াই করছে।
অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে ৫০,০০০ গর্ভবতী নারী প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছেন না। এর ফলে মায়েদের পাশাপাশি নবজাতকেরাও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অপুষ্টিজনিত কারণে ইতোমধ্যেই কয়েক ডজন শিশু মারা গেছে।
মানবতার প্রতি আবেদন
UNRWA ও অন্যান্য মানবিক সংস্থা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে: গাজার সীমান্ত খুলে দিন, সাহায্য পৌঁছাতে দিন এবং সবচেয়ে বিপন্ন শিশুদের রক্ষা করুন। “এটি শুধু নীতির ব্যর্থতা নয়; এটি মানবতার ব্যর্থতা,” বলছেন সেভ দ্য চিলড্রেনের আঞ্চলিক পরিচালক।
গাজার শিশুরা শুধুমাত্র অপুষ্টির শিকার নয়; তারা আমাদের সভ্যতার বিবেকের ওপর একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন। তাদের যন্ত্রণার প্রতি দৃষ্টি না দিলে আমরা আমাদের মানবিকতাকেই অস্বীকার করি।
বৈশ্বিক বিবেককে আহ্বান
গাজার শিশুরা আমাদের কাছে শুধুমাত্র পরিসংখ্যান নয়; তারা আমাদের মানবতার প্রতিচ্ছবি। তাদের জীবন রক্ষায় দুনিয়াব্যাপী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাদের কষ্টকে উপেক্ষা করার অর্থ, আমাদের মানবিকতার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা।


