ভারতীয় বিমান চলাচল নিরাপত্তা প্রক্রিয়া বিপদে: বারবার দুর্ঘটনা, তবে সমাধান নেই
: ১৫ জুন, ২০২৫, রবিবার, উত্তরাখণ্ড,
উত্তরাখণ্ডে আজ সকালে আরেকটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ঘটনায় সাতজন যাত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতীয় সিভিল এভিয়েশন নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার উপর গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এই বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা, যা উত্তরাখণ্ডের পর্বতীয় এলাকায় চার ধাম যাত্রা মৌসুমে হেলিকপ্টার পরিচালনার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করছে। তবে, এই ধরনের পুনরাবৃত্ত দুর্ঘটনা সত্ত্বেও সরকারী নীতি গ্রহণ বা সমস্যার সমাধানে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
আজকের ঘটনায়, গৌরীকুণ্ড এলাকায় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধারকর্মীদের চেষ্টা চলছে। এর আগে, ৮ মে, ২০২৫-এ উত্তরকাশি জেলায় গঙ্গোত্রী মন্দিরের দিকে যাওয়া একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ছয় জন, যার মধ্যে পাঁচজন মহিলা ও একজন পাইলট নিহত হয়েছিলেন। ২০২২ সালে কেদারনাথে আরেকটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা দিল্লিভিত্তিক আরিয়ান এভিয়েশনের বেল-৪০৭ হেলিকপ্টারে ঘটেছিল। এই পুনরাবৃত্ত ঘটনাগুলো পরিচালনা, প্রশিক্ষণ ও তদারকির অভাবের ইঙ্গিত দেয়, তবে এর উপর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ভারতীয় সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কার্যকর অ্যাকশন টেজিং এজেন্সি (এএআইবি) এই দুর্ঘটনাগুলোর তদন্ত করছে, তবে ফলাফল ও সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে সমালোচনা রয়েছে। একজন শোকগ্রস্ত পরিবারের সদস্যের হতাশার কথা শোনা গেছে, যিনি বলেন, "আমার স্বামী আরিয়ান এভিয়েশনের কাছে কাজ করার সময় মারা গিয়েছিলেন। আমি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চেয়েছি, কিন্তু কেউ কান দেননি। আজ আবার সাত জনের জীবন হারিয়েছে। এতটুকু জীবন হারানোর পরও কি সরকার জেগে উঠবে?"
মাউন্টেনাস টেরেইনে বিমান পরিচালনার জটিলতা, আবহাওয়ার পরিবর্তনশীলতা এবং পাইলটদের প্রশিক্ষণের অভাব এই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মতে। তবে, ডিরেক্টোরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো এই সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, তবে এই ধরনের প্রতিশ্রুতি পূর্বে বারবার দেওয়া হলেও ফল পাওয়া যায়নি।
ভারতের সিভিল এভিয়েশন খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতি, কঠোর তদারকি এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি অত্যন্ত জরুরি। যদি এই অবহেলা চলতে থাকে, তবে ভক্ত ও পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তা আরো বেশি বিপদে পড়তে পারে। সরকারকে এবার গুরুতরভাবে এই বিষয়ে কাজ করতে হবে, নইলে উত্তরাখণ্ডের আকাশে আরেকটি দুর্ঘটনা অপেক্ষা করছে।