দুর্গাপুর, ২০ আগস্ট, ২০২৫ - জনপ্রিয় শিক্ষাবিদ, উদ্ভাবক, এবং পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক আজ দুর্গাপুরে ড. বি. সি. রয় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপনে অংশ নিলেন। এই কলেজের রজত জয়ন্তী উদযাপনের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এক অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন।
সোনম ওয়াংচুক, যিনি বাস্তবের 'ফুনসুক ওয়াংড়ু' নামে পরিচিত, তাঁর বক্তৃতায় পরিবেশ এবং শিক্ষার মধ্যে সম্পর্ককে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজ আমরা হিমালয়ে যে ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি, যেমন বন্যা, আকস্মিক বন্যা, এবং ভূমিধস, তার প্রধান কারণ হলো অপরিকল্পিত উন্নয়ন। তিনি এই ধরনের উন্নয়নের বিরোধিতা করেন এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্বকে একীভূত করার কথা বলেন।
শিক্ষার লক্ষ্য শুধু চাকরি নয়, সমস্যা সমাধান:
ওয়াংচুক বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোকে এমনভাবে প্রস্তুত করা উচিত যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরি পাওয়ার জন্য নয়, বরং দেশের প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য নিজেদের তৈরি করতে পারে। তিনি দেশের তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা বিদেশে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দেশে থেকে নিজেদের সমাজের জন্য কাজ করে। তিনি বলেন, যারা নিজেদের দেশের মানুষের জন্য কাজ করে, তারাই প্রকৃত হিরো।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টেকসই উন্নয়নের পাঠ:
সোনম ওয়াংচুক শিক্ষার্থীদের পরিবেশের প্রতি সচেতন হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন এবং বলেন যে প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিত প্রতি বছর অন্তত ১০টি গাছ লাগানো এবং সেগুলোর যত্ন নেওয়া। তিনি বিশ্বাস করেন যে, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নম্বরের পাশাপাশি তাদের বাস্তব জীবনের কাজ, যেমন পরিবেশ রক্ষা বা সমাজের উন্নয়নে তাদের অবদানকেও মূল্যায়ন করা উচিত।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের কারণে মানুষ মারা যায় না, বরং ভুল ডিজাইনের দুর্বল ইমারত তৈরির কারণে মানুষ মারা যায়। তিনি প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন যে, তাদের এমনভাবে ভবন ডিজাইন করতে হবে যা ভূমিকম্প সহনশীল হয়।
সোনম ওয়াংচুকের এই সফর দুর্গাপুরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাঁর বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তা তরুণদের নতুনভাবে ভাবতে উৎসাহিত করেছে। তিনি বলেন, সরকার এবং জনগণ উভয়েরই দূরদৃষ্টি নিয়ে কাজ করা উচিত যাতে প্রকৃতির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।



