কলকাতা: অক্টোবর ৮, ২০২৫—অক্টোবর ১ থেকে ৫, ২০২৫ পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উত্তরবঙ্গে দেখা দিয়েছে এক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস সঙ্কট। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে, এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলার প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষ এই সঙ্কটে প্রভাবিত হয়েছেন।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা
ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরিক, সুখিয়াপোখরি, জোরেবাংলো এবং নাগরাকাটার মতো এলাকাগুলি। সেখানে বাড়িঘর ভেসে গেছে, একাধিক সেতু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে এবং রাস্তা যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং-এর মধ্যে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক ৫৫ (NH-55) ধসের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।
সঙ্কটে আটকে পড়া শত শত পর্যটককে রাজ্য পুলিশ ও সরকারের প্রচেষ্টায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদের হোটেল ও যাতায়াতের সমস্ত খরচ বহন করছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা ও ত্রাণ কার্যক্রম
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বন্যাকে ‘মনুষ্যসৃষ্ট’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনকে (ডিভিসি) এককভাবে জল ছাড়ার জন্য দায়ী করেছেন, যার ফলে প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ডকে রক্ষা করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নদীগুলিতে জল উপচে পড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজন সদস্যকে হোম গার্ডের চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। এছাড়া ত্রাণ হিসেবে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে:
বিশেষ শিবির: দুর্যোগে হারিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার জন্য বিশেষ ক্যাম্পের ব্যবস্থা।
কমিউনিটি কিচেন: ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কমিউনিটি রান্নাঘর স্থাপন।
অন্যান্য সাহায্য: স্কুলবই সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ সংযোগের খুঁটি মেরামতের কাজ শুরু।
উদ্ধারকাজ ও বর্তমান সতর্কতা
রাস্তা পরিষ্কার এবং পুনরুদ্ধার কাজ জোরকদমে চলছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) ধসের ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে কাজ করছে।
অন্যদিকে, ভুটান সীমান্তবর্তী ডুয়ার্স অঞ্চলে তালা বাঁধের জল উপচে হঠাত্ বন্যার (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) ঝুঁকি থাকায় কর্তৃপক্ষকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া গ্রামগুলিতে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় হেলিকপ্টারের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সরকার উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য বাস ও ত্রাণ শিবিরগুলির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই বিপর্যয়ের ফলে উত্তরবঙ্গে ব্যাপক জনজীবন বিঘ্নিত, প্রাণহানি, পরিকাঠামোর ক্ষতি এবং ব্যাপক সংখ্যক মানুষের স্থানচ্যুতি ঘটেছে। রাজ্য সরকার ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থাগুলি নিরন্তর ত্রাণ, উদ্ধার এবং পুনর্বাসন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

.png)
