ভক্তপুর, নেপাল: নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (ইউনিফাইড মার্কসিস্ট-লেনিনিস্ট) বা সিপিএন-ইউএমএল-এর ১১তম জাতীয় সম্মেলন ভক্তপুরের সল্লাঘারিতে এক বিশাল জনসভার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। পার্টির ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো দলের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন করা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণ করা।
তিন দিনব্যাপী (১৩-১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫) এই সম্মেলনে নেপালের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২,২৬২ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান এবং নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি।
নেতৃত্বের লড়াই ও ওলির বার্তা এবারের সম্মেলনের প্রধান আকর্ষণ হলো পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের নির্বাচন। বর্তমান চেয়ারম্যান কেপি শর্মা ওলি টানা তৃতীয় মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান পদের লড়াইয়ে নেমেছেন। তবে দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের পরিবর্তনের ডাক দিয়ে তাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান ঈশ্বর পোখারেল।
উদ্বোধনী ভাষণে কেপি শর্মা ওলি 'সমৃদ্ধ নেপাল, সুখী নেপালি' গড়ার লক্ষ্যে ইউএমএল-কে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ও নির্ণায়ক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং 'জেন-জি' (Gen-Z) আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি দলের ঐক্য এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। ওলি তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ইউএমএল-এর নেতৃত্বে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন।
তাৎপর্য ভক্তপুরের সল্লাঘারির এই সমাবেশটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক জমায়েত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিগত দিনে দলের ভাঙন এবং নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এই সম্মেলন সিপিএন-ইউএমএল-এর জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন সবার দৃষ্টি সম্মেলনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের (Closed Session) দিকে, যেখানে আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।





