নয়াদিল্লি: দিল্লির বহুল চর্চিত আবগারি দুর্নীতি মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেল আম আদমি পার্টি (AAP)। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া এবং আরও ২৩ জন অভিযুক্তকে সিবিআই (CBI)-এর মামলা থেকে অব্যাহতি (Discharged) দিয়েছে। আদালতের এই রায়কে বিজেপির "প্রতিহিংসার রাজনীতি"র বিরুদ্ধে সত্যের জয় হিসেবে দেখছে আপ শিবির।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ: সিবিআই-কে ভর্ৎসনা
শুনানির সময় বিশেষ বিচারক কাবেরী বাওয়েজা সিবিআই-এর তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:
প্রমাণের অভাব: আদালত জানায়, সিবিআই কেবলমাত্র একটি "ষড়যন্ত্রের বয়ান" তৈরির চেষ্টা করেছে, কিন্তু তার সপক্ষে কোনো ठोस প্রমাণ পেশ করতে পারেনি।
তদন্তে অস্বচ্ছতা: বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, বারবার চাওয়া সত্ত্বেও সিবিআই সাক্ষী এবং স্বীকারোক্তির তালিকা ঠিকমতো জমা দেয়নি, বরং অনেক তথ্য 'সিলড এনভেলপ'-এ দিয়ে লুকানোর চেষ্টা করেছে।
"তদন্ত নয়, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র": কেজরিওয়ালের আক্রমণ
আদালত থেকে ক্লিনচিট পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
"আজ প্রমাণিত হলো যে অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মনীশ সিসোদিয়া 'কট্টর ইমানদার'। মোদী এবং অমিত শাহ মিলে আম আদমি পার্টিকে শেষ করার জন্য স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ফেঁদেছিলেন।"
প্রতিহিংসার শিকার: কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন যে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই দেশের একটি ক্ষমতাসীন দলের মুখ্যমন্ত্রীকে জেল খাটানো হয়েছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে।
উন্নয়নে নজর দেওয়ার পরামর্শ: তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিরোধীদের পেছনে সিবিআই-ইডি লেলিয়ে না দিয়ে দেশের বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং ভেঙে পড়া পরিকাঠামো ঠিক করার দিকে নজর দিন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, এই আবগারি মামলাকে কেন্দ্র করে মনীশ সিসোদিয়াকে প্রায় দুই বছর এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ছয় মাস কারাবন্দি থাকতে হয়েছিল। আপ-এর দাবি, ২০২৪-এর নির্বাচনের আগে বিরোধী কণ্ঠরোধ করতেই বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করেছিল। আজকের আদালতের রায় আপ-এর সেই দাবিকেই মান্যতা দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই রায়ের ফলে দিল্লির আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে আপ যে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।


