নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আজ ১২ ফেব্রুয়ারি, ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের (CITU, AITUC, INTUC সহ অন্যান্য) যৌথ ডাকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সর্বভারতীয় সাধারণ ধর্মঘট। কেন্দ্রীয় সরকারের চারটি শ্রম কোড বাতিল, শ্রমিক-কৃষক বিরোধী নীতি প্রত্যাহার এবং কর্পোরেটপন্থী অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়নগুলির দাবি অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ৩০ কোটি শ্রমিক এই ধর্মঘটে সামিল হয়েছেন।
হুগলির শিল্পাঞ্চল কার্যত স্তব্ধ
ধর্মঘটের সবচেয়ে জোরালো প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে হুগলি জেলায়। সকাল থেকেই জেলার শিল্পতালুকগুলোতে লাল পতাকার ভিড়।
বন্ধ জুট মিল: গৌর নর্থ জুট মিল, গড়হারা লিমিটেড, শ্যামনগর নর্থ, ডালহৌসি এবং নর্থব্রুক জুট মিলের মতো বড় কারখানাগুলোতে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ।
শ্রমিকদের প্রতিবাদ: কারখানার গেটে গেটে শ্রমিকরা জমায়েত হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। সিপিআই(এম) হুগলি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে কয়েক হাজার শ্রমিকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা গেছে।
জনজীবনে প্রভাব: ব্যাঙ্ক ও সরকারি পরিষেবা
শিল্পাঞ্চলের বাইরেও ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে জনজীবনে:
কোন্নগর ও পাণ্ডুয়া: কোন্নগর শহরের সমস্ত ব্যাঙ্ক আজ বন্ধ। পাণ্ডুয়াতে ব্যাঙ্ক, বিমা ও পোস্ট অফিস সহ বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।
কৃষক আন্দোলন: বলাগড়ে আজ কৃষক সমিতির পক্ষ থেকে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়েছে।
জনসংযোগ: হিন্দমোটরে ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সহ বাম নেতৃত্ব পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলছেন ও ধর্মঘটের সমর্থনে বৈঠক করছেন।
জাতীয় প্রেক্ষাপট
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে কেরালা, তামিলনাড়ু, ওড়িশা, বিহার ও আসামে। মূলত ব্যাঙ্কিং, পরিবহণ এবং উৎপাদন শিল্পে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির মতে, এটি কেবল ধর্মঘট নয়, বরং শ্রমিক-কৃষকদের অধিকার রক্ষার এক দীর্ঘ লড়াই।
"এই লড়াই শ্রমিকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যাওয়ার লড়াই। আমরা আমাদের অধিকার ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত থামব না।" — ধর্মঘটী শ্রমিকদের বক্তব্য।
রাজ্য সরকারের অবস্থান
ধর্মঘটের বিরোধিতা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগেই বিজ্ঞপ্তি জারি করে সমস্ত সরকারি দপ্তর খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। অনুপস্থিত কর্মীদের বেতন কাটারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের কড়া অবস্থান সত্ত্বেও সকাল থেকে শিল্পাঞ্চল ও মফস্বল এলাকায় ধর্মঘটের সমর্থনে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।




