নয়াদিল্লি: পাতিয়ালা হাউস কোর্টের বারান্দায় যখন আজ বিকেলের আলো এসে পড়ল, তখন সেখানে কোনো উল্লাস ছিল না, ছিল এক গুমোট করা নীরবতা আর জেদের প্রতিচ্ছবি। জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভানেত্রী অদিতি মিশ্র, সহ-সভাপতি গোপিকা বাবু, যুগ্ম সম্পাদক দানিশ আলি এবং প্রাক্তন সভাপতি নীতিশ কুমার—যাঁদের কণ্ঠস্বর দমানোর চেষ্টা হয়েছিল গত বৃহস্পতিবারের রাজপথে, আজ আদালত তাঁদের প্রত্যেকের জন্য ২৫,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেছে।
কিন্তু এই মুক্তি যেন এক বিষণ্ণ অধ্যায়। আইনি প্রক্রিয়া এবং যাচাইকরণের বেড়াজালে তাঁদের আজ রাতটুকুও কাটাতে হবে সেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতের চার দেওয়ালের মাঝেই। মুক্তির আদেশ হাতে এলেও সহযোদ্ধাদের মিছিলে ফিরতে তাঁদের আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
রক্তাক্ত বৃহস্পতিবার ও এক অসম লড়াই
গত বৃহস্পতিবার দিল্লির রাজপথ দেখেছিল এক অন্য দৃশ্য। উপাচার্যের পদত্যাগ এবং ক্যাম্পাসে সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্রছাত্রীদের "লং মার্চ" যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই পুলিশি বাধার মুখে পড়ে ছাত্ররা। পুলিশের সাথে সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাঝেই গ্রেফতার করা হয় ১৪ জন ছাত্রকে।
যাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই:
উপাচার্যের কথিত বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের প্রতিবাদ।
অন্যায়ভাবে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ (Rustication) প্রত্যাহার।
ইউজিসি-র (UGC) সমতা নীতি বাস্তবায়ন।
এবং সবশেষে, দলিত ও প্রান্তিক ছাত্রদের সুরক্ষায় 'রোহিত অ্যাক্ট' কার্যকর করার জোরালো দাবি।
ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী প্রতিবাদের মুখ
আলোকচিত্রী ত্রিভুবন তিওয়ারির ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে ক্লান্ত কিন্তু অবিচল চার মুখকে। তাঁদের চোখে জল নেই, আছে এক বুক জ্বালা। ক্যাম্পাস গেটে পুলিশের লাঠিচার্জ আর রক্তপাত যে আদর্শকে দমাতে পারেনি, আদালতের কক্ষ থেকেও সেই একই বারুদ ফুটে বেরোচ্ছিল।
"শিক্ষা কোনো ভিক্ষা নয়, বরং আমাদের অধিকার—আর এই অধিকারের লড়াইয়ে কারাগার আমাদের কাছে এক নতুন পাঠশালা।" — ক্যাম্পাসের বাইরে অপেক্ষারত এক ছাত্রের আর্তনাদ।
জেএনইউ-এর এই লড়াকু সন্তানদের জন্য আজ গোটা ক্যাম্পাস অপেক্ষায়। তাঁরা ফিরবেন, আবার স্লোগান উঠবে, আবার পোস্টারে ভরে যাবে ধলপুরি দেয়াল। কিন্তু আজকের এই রাতটুকু তাঁদের জন্য বড়ই দীর্ঘ, বড়ই একাকী।
#JNUProtest #JusticeForStudents #UGC #StandWithJNU




