বাগদাদ ও নয়াদিল্লি | বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
ইরাকের জলসীমায় দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে এক ভয়াবহ নাশকতামূলক হামলায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI) এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরাকের খোর আল জুবায়ের বন্দরের কাছে এই হামলা চালানো হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল দুটি পৃথক তেলের ট্যাঙ্কার:
Safesea Vishnu: মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী এবং আমেরিকার মালিকানাধীন এই ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কারে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারান। জাহাজটিতে থাকা বাকি ২৭ জন কর্মীকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে ইরাকের বসরা শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
Zefyros: মাল্টার পতাকাবাহী এবং গ্রিসের মালিকানাধীন এই জাহাজটিও হামলার শিকার হয়। তবে ওমান থেকে পাওয়া সূত্র অনুযায়ী, এই জাহাজের সকল নাবিককে অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও হামলার পদ্ধতি
ইরাকি বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীরা বিস্ফোরক বোঝাই "সুইসাইড বোট" বা আত্মঘাতী নৌকা ব্যবহার করে এই নাশকতা চালিয়েছে। মাঝসমুদ্রে এই ধরনের অতর্কিত হামলা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে এক বিশাল নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
"বিস্ফোরক বোঝাই ছোট নৌকার মাধ্যমে এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।" — ইরাকি বন্দর কর্তৃপক্ষ
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভারতের অবস্থান
নিহত ভারতীয় নাগরিকের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এই ঘটনার পর ভারত সরকার এবং সংশ্লিষ্ট শিপিং কোম্পানিগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জোরালো দাবি তোলা হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক মহলে এর প্রভাব এবং তেলের বাজারে এর প্রতিক্রিয়ার দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।


