তিরুবনন্তপুরম: ২০২৫ সালের মহাকুম্ভ মেলায় রুদ্রাক্ষের মালা বিক্রি করে রাতারাতি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া ১৮ বছর বয়সী আদিবাসী তরুণী মোনালিসা ভোসলে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন। পাত্র তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিক ও সহ-অভিনেতা ফারমান খান। বুধবার কেরালায় কড়া পুলিশি পাহারায় এবং শাসক দল সিপিআই(এম)-এর শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই বিশেষ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিরোধ
মোনালিসা মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বাসিন্দা। গত ছয় মাস ধরে মহারাষ্ট্রের যুবক ফারমানের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু তাঁদের ভিন্নধর্মী সম্পর্কের কারণে মোনালিসার পরিবার এই বিয়ের তীব্র বিরোধিতা করে। অভিযোগ ওঠে, মোনালিসার বাবা তাঁকে জোর করে গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে নিজের পছন্দমতো পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই জুটি কেরালায় আশ্রয় নেন এবং তিরুবনন্তপুরমের থাম্পানুর থানায় গিয়ে পুলিশি সুরক্ষা চান। পুলিশ নথি যাচাই করে নিশ্চিত করে যে মোনালিসা প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর), ফলে নিজের পছন্দমতো বাঁচার আইনি অধিকার তাঁর রয়েছে।
সিপিআই(এম)-এর সমর্থন ও উপস্থিতি
কেরালার শাসক দল সিপিআই(এম) এই বিয়েকে "ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জয়" হিসেবে অভিহিত করেছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন:
এম. ভি. গোবিন্দান (সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক)
ভি. শিবনকুট্টি (কেরালার শিক্ষামন্ত্রী)
এ. এ. রহিম (রাজ্যসভা সাংসদ)
সাংসদ এ. এ. রহিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, কেরালা এমন একটি রাজ্য যেখানে সংবিধান প্রদত্ত অধিকার নির্ভয়ে প্রয়োগ করা যায়। তিনি এই বিয়েকে ভারতের সামাজিক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
বিতর্ক ও অভিযোগ
বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় ওঠে।
বয়স নিয়ে বিতর্ক: অনেক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করা হয় মোনালিসা নাবালিকা এবং ফারমানের বয়স ৩০-৩৫ এর মধ্যে। তবে মোনালিসা এবং ফারমান উভয়েই এই দাবি নস্যাৎ করেছেন। তাঁরা আধার কার্ড ও বার্থ সার্টিফিকেট পেশ করে প্রমাণ করেছেন যে মোনালিসা প্রাপ্তবয়স্ক।
বিজেপি ও ভিএইচপি-র অবস্থান: বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) এই ঘটনাকে 'লাভ জিহাদ' হিসেবে চিহ্নিত করে কেরালা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে। তাদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত ধর্মান্তকরণ বা প্ররোচনার ঘটনা।
"আমি আমার নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছি। আমার পরিবার আমাকে জোর করে অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে চাইছিল। কেরালা আমাদের নিরাপত্তা দিয়েছে, এখানে মানুষ অনেক বেশি উদার।"
— মোনালিসা ভোসলে
কেরালা সরকারের K-SMART পোর্টালের মাধ্যমে এই বিয়ে ইতিমধ্যেই রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। সিপিআই(এম) নেতাদের মতে, এটি "রিয়েল কেরালা স্টোরি", যেখানে ঘৃণা নয় বরং ভালোবাসার জয় হয়।




