রিপাবলিক টিভির প্রতিবেদন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, মিশনারিজ অফ চ্যারিটির দুই সন্ন্যাসিনী (নান) পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই সাক্ষাতের ঠিক এক দিন পরেই অর্থাৎ শনিবার, ২৩ মে, মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও মাদার হাউসে যান এবং মিশনারিজ অফ চ্যারিটির নানদের সঙ্গে দেখা করেন।
ক্রোনোলজি' বা ঘটনাপ্রবাহের ইঙ্গিত
সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকজন ডানপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক এই দুই ঘটনার পর্যায়ক্রম বা 'ক্রোনোলজি' তুলে ধরেছেন এবং এটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে দাবি করেছেন:
শুক্রবার, ২২ মে: মিশনারিজ অফ চ্যারিটির দুই নানের সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ।
শনিবার, ২৩ মে: মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর মাদার হাউস পরিদর্শন এবং নানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ।
এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে @Indian_Analyzer-এর মতো অ্যাকাউন্টগুলি এই বিষয়টি সামনে এনে লিখেছে: "ঠিক এক দিন পরেই মার্কিন বিদেশ সচিব মিশনে যান", যা এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনও সম্ভাব্য যোগসূত্র থাকার জল্পনা উসকে দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মিশনারিজ অফ চ্যারিটির মধ্যে ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত সুসম্পর্ক রয়েছে। ২০১৬ সালে ভ্যাটিকানে মাদার টেরেসাকে 'সন্ত' ঘোষণার (ক্যানোনাইজেশন) অনুষ্ঠানে সরকারি প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে নয়, বরং মিশনারিজ অফ চ্যারিটির ব্যক্তিগত অতিথি হিসেবেই উপস্থিত ছিলেন তিনি। তাই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং নানদের মধ্যে এই সাক্ষাৎ আক্ষরিক অর্থে অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তবে, বর্তমান মার্কিন-ভারত কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ঠিক মার্কো রুবিওর সফরের আগের দিনই এই সাক্ষাতের সময়কাল রাজনৈতিক মহলের, বিশেষ করে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও শুক্রবারের এই বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর বা মিশনারিজ অফ চ্যারিটির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।


