দুর্গাপুর, ৯ মে ২০২৬: রাজ্যের 'ওয়াশিং মেশিন' রাজনীতির জমানায় কার্যত উলটপুরাণ! নির্বাচন মিটতেই যখন সুবিধাবাদী, তোলাবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্তরা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে শিবির বদলের ফন্দি আঁটছে বা নতুন সমীকরণ খুঁজছে, ঠিক তখনই তাদের মুখের ওপর সপাটে দরজা বন্ধ করে দিল সিপিআই(এম)। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হলো— দুর্নীতিবাজ, তোলাবাজ এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির কারবারিদের জন্য লাল ঝান্ডার নিচে কোনো জায়গা নেই।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টের স্ক্রিনশট রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলেছে। গত ৫ মে @ImAbhishek_5 নামক একটি অ্যাকাউন্টের মন্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়ে সিপিআই(এম) নেতা মহম্মদ সেলিম যে ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন, তা বামেদের আপোষহীন ও আগ্রাসী লড়াইয়েরই স্পষ্ট ইঙ্গিত।
লুটেরাদের ঠাঁই নেই, জিরো টলারেন্স নীতি
ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে সেলিম অত্যন্ত কড়া ভাষায় লিখেছেন, "কঠোরভাবে না! অপরাধী, তোলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সাম্প্রদায়িক পটভূমির কারোর জন্যই কোনো প্রবেশাধিকার নেই।"
বামেদের এই অবস্থান থেকে পরিষ্কার যে, কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ, এবং ধর্মের নামে মেরুকরণের রাজনীতি করে যারা নিজেদের পকেট ভরিয়েছে, তাদের জন্য সিপিআই(এম)-এর দরজা চিরতরে বন্ধ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি আসলে রাজ্যের বর্তমান শাসক ও প্রধান বিরোধী দলের দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্কৃতি ও দলবদলের রাজনীতির প্রতি এক তীব্র আক্রমণ। কোনোভাবেই যে আদর্শচ্যুত অপরাধীদের দলে ভিড়িয়ে সংগঠন বাড়ানোর সস্তা রাজনীতি বামেরা করবে না, তা এই বার্তায় জলের মতো পরিষ্কার।
প্রান্তিক মানুষের পাহারায় থাকবে লাল ঝান্ডা
লুটেরাদের প্রতি জিরো টলারেন্স দেখালেও, রাজ্যের শোষিত ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে সিপিআই(এম) যে একবিন্দুও আপোষ করবে না, তা ফের গর্জে উঠে জানিয়েছেন সেলিম। ওই টুইটের শেষাংশে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, "তবে সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষদের অবশ্যই সুরক্ষা প্রদান করতে হবে।"
এর অর্থ স্পষ্ট— যে খেটে খাওয়া মানুষরা শাসকদলের দুর্নীতি এবং পুঁজিপতিদের শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট, তাদের একমাত্র রক্ষাকবচ হিসেবে রাস্তায় লড়বে বামপন্থীরাই।
Views Now-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
দুর্গাপুর এবং পশ্চিম বর্ধমানের বিস্তীর্ণ শিল্পাঞ্চলে যখন কয়লা মাফিয়াদের দাপট, তোলাবাজি এবং সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষের বঞ্চনার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ঘটছে, তখন সেলিমের এই মন্তব্য এখানকার মেহনতি মানুষের কাছে একটি বড় ভরসার বার্তা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর বামেরা যে আর কোনোভাবেই ডিফেন্সিভ রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং দুর্নীতিগ্রস্তদের সামাজিকভাবে বয়কট করে প্রান্তিক মানুষের অধিকার ছিনিয়ে আনতে তারা যে এখন অনেক বেশি আগ্রাসী, সেলিমের এই টুইট তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।


