নয়াদিল্লি, ৬ জুন: দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহিতার দাবিতে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রথম বড় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ কর্মসূচি করল নবগঠিত Cockroach Janta Party (CJP)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা Abhijeet Dipke-এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্র-যুবদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়।
প্রতিবাদের আগে দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয় এবং পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের প্রথমে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় রিপোর্ট করার পরিবর্তে সরাসরি যন্তর মন্তরে জমায়েত হওয়ার অনুমোদন দেয়। এর ফলে সমাবেশ ঘিরে উৎসাহ আরও বাড়ে।
সমাবেশে সবচেয়ে বেশি শোনা যায় ভাইরাল স্লোগান— "Cockroaches aa rahe hain, Dharmendra Pradhan jaa rahe hain"। এই স্লোগানের মাধ্যমে প্রতিবাদকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী Dharmendra Pradhan-এর পদত্যাগ দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, NEET-UG 2026-সহ একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফলে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্রতিবাদস্থলে উপস্থিত ছাত্র-যুবদের হাতে ছিল বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড। সেখানে "Exam Justice", "Students Deserve Accountability", "Save Education" প্রভৃতি স্লোগান লেখা দেখা যায়। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়; বরং শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ যুবসমাজের গণআন্দোলন।
গত মে মাসে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে ককরোচ জনতা পার্টি। একটি বিচারিক মন্তব্যে বেকার যুবকদের "ককরোচ" বলে উল্লেখ করার ঘটনাকে প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে। সেই পরিচয়কেই প্রতিবাদের ভাষায় রূপান্তরিত করে তারা বেকারত্ব, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং সরকারি জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলে ধরছে।
সংগঠনের মুখপাত্রদের বক্তব্য, আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং নির্দলীয়। কোনও রাজনৈতিক পতাকা বা দলের ব্যানার ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছিল অংশগ্রহণকারীদের। তাদের দাবি, দেশের শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থায় যে "পচন" তৈরি হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ন্যূনতম জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
NEET-UG 2026-কে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সমালোচনার মধ্যেই এই সমাবেশ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অনেকের মতে, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগের বাস্তব ময়দানে প্রথম বড় শক্তিপ্রদর্শন হিসেবে আজকের কর্মসূচি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
ককরোচ জনতা পার্টির এই প্রথম বৃহৎ জনসমাবেশ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ছাত্র-যুব আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে যন্তর মন্তরের আজকের সমাবেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশের শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থাকে ঘিরে অসন্তোষ এখন আর শুধু সামাজিক মাধ্যমের পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই।






