" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আরাবল্লী বাঁচাও আন্দোলনের নতুন বার্তা: পাহাড়, জল ও জলবায়ু রক্ষার লড়াই আরও জোরালো //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আরাবল্লী বাঁচাও আন্দোলনের নতুন বার্তা: পাহাড়, জল ও জলবায়ু রক্ষার লড়াই আরও জোরালো

 



Views Now Special Report
নয়াদিল্লি, ৫ জুন: বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রাচীনতম পর্বতমালা আরাবল্লীকে ঘিরে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ জলের সংকট, বায়ুদূষণ এবং মরুকরণের মতো বহুমাত্রিক পরিবেশগত বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে পরিবেশবিদ, বিজ্ঞানী, নাগরিক সংগঠন এবং তরুণ প্রজন্মের এক বড় অংশ আরাবল্লী পর্বতমালার সংরক্ষণের দাবিতে সরব হয়েছেন।


"আরাবল্লী বাঁচাও" বা "সেভ আরাবল্লী" আন্দোলন কেবল একটি পাহাড় রক্ষার আন্দোলন নয়; এটি প্রকৃতি, জল, বন, জীববৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম হিসেবে ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত সচেতনতা শিবির, পদযাত্রা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারাভিযানের মাধ্যমে এই বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতের প্রাচীনতম পর্বতমালা

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, আরাবল্লী পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন পর্বতশ্রেণী। প্রায় ১.৫ থেকে ২ বিলিয়ন বছর আগে এর গঠন শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এটি গুজরাট, রাজস্থান, হরিয়ানা এবং দিল্লি পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল রাজস্থানের মাউন্ট আবু অঞ্চলের গুরু শিখর, যার উচ্চতা ১,৭২২ মিটার।


আরাবল্লী কেবল একটি পাহাড়ি অঞ্চল নয়; এটি উত্তর-পশ্চিম ভারতের পরিবেশগত ভারসাম্যের অন্যতম স্তম্ভ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পর্বতমালা থর মরুভূমির পূর্বদিকে বিস্তার রোধে একটি প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে এটি বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ এবং স্থানীয় আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


কেন গুরুত্বপূর্ণ আরাবল্লী?

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে আরাবল্লী পর্বতমালা দুর্বল হয়ে পড়লে তার প্রভাব শুধু রাজস্থান বা হরিয়ানাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দিল্লি-এনসিআরসহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এর ফল ভোগ করবে।

আরাবল্লীর বনাঞ্চল বৃষ্টির জল মাটির নিচে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে, যার ফলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বজায় থাকে। বহু নদী ও জলাধারের জল সরবরাহও এই অঞ্চলের পরিবেশগত স্বাস্থ্যের উপর নির্ভরশীল।

এছাড়া চিতাবাঘ, হায়না, নীলগাই, শিয়াল, অসংখ্য পাখি এবং বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ আরাবল্লীর বাস্তুতন্ত্রের অংশ। ফলে বনভূমি ধ্বংস মানে শুধু গাছ কাটা নয়, একটি সম্পূর্ণ জীববৈচিত্র্যকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া।


বন উজাড় ও খননের চাপ

গত কয়েক দশকে আরাবল্লী অঞ্চলে দ্রুত নগরায়ন, অবৈধ খনি কার্যকলাপ, পাথর খাদান, রাস্তা নির্মাণ এবং রিয়েল এস্টেট প্রকল্পের বিস্তার পরিবেশবিদদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিভিন্ন গবেষণা ও পরিবেশগত মূল্যায়নে দেখা গেছে, আরাবল্লীর বহু অংশে বনভূমির পরিমাণ কমেছে এবং পাহাড় কেটে খনিজ উত্তোলনের ফলে ভূপ্রকৃতি পরিবর্তিত হয়েছে। পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, আইন থাকা সত্ত্বেও বহু এলাকায় অবৈধ খনি কার্যকলাপ এবং জমি দখল অব্যাহত রয়েছে।

তাঁদের মতে, আরাবল্লী ধ্বংসের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদে কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও ভূমি মাফিয়া লাভবান হলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির বোঝা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

আন্দোলনের উত্থান

এই প্রেক্ষাপটেই জন্ম নিয়েছে "আরাবল্লী বাঁচাও" আন্দোলন। পরিবেশবাদী সংগঠন, স্থানীয় গ্রামবাসী, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে আরাবল্লী সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

আন্দোলনের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—

  • অবৈধ খনি কার্যকলাপ বন্ধ করা।
  • বনভূমি ধ্বংস রোধ করা।
  • পাহাড়ি অঞ্চলে রিয়েল এস্টেট প্রকল্পের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
  • পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলিকে বিশেষ সুরক্ষা প্রদান।
  • ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে বনায়ন।
  • স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচি।

আন্দোলনকারীরা মনে করেন, আরাবল্লী রক্ষা মানেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইকে শক্তিশালী করা।

নতুন সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আরাবল্লী অঞ্চলের সংজ্ঞা ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নির্দেশিকায় আরাবল্লী পাহাড়ের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবেশবাদীদের একাংশের আশঙ্কা, এই নতুন সংজ্ঞার ফলে কিছু অঞ্চল আইনি সুরক্ষার বাইরে চলে যেতে পারে এবং সেখানে খনি বা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অনুমোদন সহজ হয়ে উঠতে পারে।

তবে কেন্দ্র সরকারের বক্তব্য ভিন্ন। সরকারের দাবি, নতুন সংজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো আরাবল্লীর প্রকৃত পরিবেশগত একককে বৈজ্ঞানিকভাবে চিহ্নিত করা এবং সংরক্ষণকে আরও কার্যকর করা। সরকারের মতে, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, জলাভূমি এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় সুরক্ষা ব্যবস্থা বহাল রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে আরাবল্লীর ভূমিকা

বর্তমান সময়ে পৃথিবী যখন ক্রমবর্ধমান উষ্ণায়ন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা এবং চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি, তখন আরাবল্লীর মতো প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক ও সবুজ অঞ্চলগুলির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বনাঞ্চল কার্বন শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে গাছপালা স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং বায়ুর মান উন্নত করে।

আরাবল্লী দুর্বল হলে দিল্লি ও আশপাশের অঞ্চলে ধুলিঝড়, বায়ুদূষণ এবং তাপপ্রবাহের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

পরিবেশ দিবসের বার্তা

এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আরাবল্লী বাঁচাও আন্দোলনের অন্যতম বার্তা ছিল— "পাহাড় বাঁচাও, জল বাঁচাও, ভবিষ্যৎ বাঁচাও"।

আন্দোলনের কর্মীরা বলেন, পরিবেশ রক্ষা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; নাগরিক সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞানী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই লড়াই সফল হবে না।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই মুহূর্তে আরাবল্লী আন্দোলন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির ক্ষতি করে উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। কয়েকজনের মুনাফার জন্য যদি পাহাড়, বন ও জলসম্পদ ধ্বংস হয়, তবে তার মূল্য দিতে হয় সমগ্র সমাজকে।

ভারতের প্রাচীনতম পর্বতমালা আজ শুধু একটি ভূগোল নয়, বরং পরিবেশ ও উন্নয়নের ভারসাম্য রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। আর সেই কারণেই আরাবল্লী বাঁচানোর দাবি আজ কেবল একটি অঞ্চলের দাবি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জাতীয় অঙ্গীকার।

— Views Now Special Correspondent
www.viewsnow.co.in

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies