স্পোর্টস ডেস্ক: ঐতিহাসিক যাত্রার এক বেদনাদায়ক সমাপ্তি ঘটল সহ-আয়োজক কানাডার। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র (রাউন্ড অব ১৬) প্রথম ম্যাচে মরক্কোর কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল উত্তর আমেরিকার দেশটি। এই জয়ের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের টিকিট নিশ্চিত করল মরক্কো।
৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটিতে প্রথমার্ধে দুই দলই কিছুটা রক্ষণাত্মক খেললেও, দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় মরক্কো। মরক্কোর মিডফিল্ডার আজ্জেদিন ওনাহি (Azzedine Ounahi) দুর্দান্ত এক জোড়া গোল (ব্রেস) করেন এবং অতিরিক্ত সময়ে (স্টপেজ টাইম) সুফিয়ান রাহিমি আরও একটি গোল করে কানাডার বিদায় ঘণ্টা নিশ্চিত করেন। ম্যাচটি ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ ও শারীরিক ফাউলে ভরা; পুরো ৯০ মিনিটে মোট ৩৮টি ফাউল হয় এবং রেফারি আটটি হলুদ কার্ড দেখান।
ম্যাচের বিস্তারিত বিশ্লেষণ (Detailed Analysis)
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি (Match Flow)
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল বেশ সতর্ক ও সমানে-সমান। কানাডা শুরুতে কিছু সুযোগ তৈরি করলেও তা গোলপোস্টের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। তবে বিরতির পর খোলস ছেড়ে বের হয় মরক্কো। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে আজ্জেদিন ওনাহির গোলে এগিয়ে যায় তারা। এরপর ৮২তম মিনিটে ওনাহি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ম্যাচ শেষের ঠিক আগ মুহূর্তে কানাডার রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সুফিয়ান রাহিমি মরক্কোর পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন।
কৌশলগত লড়াই (Tactical Analysis)
পরিসংখ্যানের দিক থেকে ম্যাচটি খুব বেশি একপেশে মনে না হলেও, ডি-বক্সের ভেতর ডিফেন্ডিং এবং কাউন্টার অ্যাটাকের (transition moments) দিক থেকে মরক্কো অনেক বেশি কার্যকর ছিল। কানাডা হাই-প্রেস (উচ্চ গতিতে আক্রমণ) করার চেষ্টা করলেও মরক্কোর ফুটবলাররা বারবার সেই চাপ কাটিয়ে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে নেয়। বিশেষ করে শেষ গোলটির সময় কানাডা অল-আউট আক্রমণে যাওয়ায় তাদের রক্ষণভাগ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, যার ফায়দা তোলে মরক্কো।
মূল পরিসংখ্যান (Key Stats)
ম্যাচের মূল পরিসংখ্যানগুলো দেখলেই বোঝা যায় যে মরক্কো সুযোগ তৈরিতে কতটা নিখুঁত ছিল:
| পরিসংখ্যান | কানাডা | মরক্কো |
| বল দখল (Possession) | ৪৫% | ৫৫% |
| অন-টার্গেট শট (Shots on goal) | ৩ | ৪ |
| ফাউল (Fouls committed) | ২৪ | ১৪ |
| সঠিক পাস (Accurate passes) | ২৭২ | ৩৮৯ |
| এক্সপেক্টেড গোল (Expected goals) | ০.৮৬ | ০.৭৯ |
কানাডার ফাউলের উচ্চ সংখ্যা (২৪টি) প্রমাণ করে যে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেয়ে মরক্কোর আক্রমণ ঠেকাতেই বেশি ব্যস্ত ছিল।
খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স (Player Impact)
মরক্কোর জয়ের নায়ক নিঃসন্দেহে আজ্জেদিন ওনাহি। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ পরিচালনা করা এবং সঠিক সময়ে বক্সে ঢুকে দুটি দুর্দান্ত গোল করে তিনি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হন। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে সুফিয়ান রাহিমি দলের জয়কে উৎসবে পরিণত করেন। অন্যদিকে, কানাডার তারকা ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড মরক্কোর জমাট রক্ষণভাগের সামনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি।
বিদায়ের বেদনা ও ভবিষ্যৎ
সহ-আয়োজক হিসেবে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে উঠে ইতিহাস গড়েছিল কানাডা। ম্যাচ শেষে কানাডিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে জানায়, "এই বিদায়ের কষ্টটা সত্যি অনেক বেশি।" তবে হারলেও অতীতের যেকোনো বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের আসরে কানাডা অনেক বেশি লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কো এখন শেষ ১৬-র অন্য ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।







