ডালাস, টেক্সাস: ফুটবল বিশ্বের একটি মহাকাব্যিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল অশ্রুসজল চোখে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ সিক্সটিনে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলের হৃদয়বিদারক পরাজয়ে থামল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বজয়ের শেষ স্বপ্ন। ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ যাত্রায় যবনিকা পড়ল মাঠের লড়াইয়ের শেষ মুহূর্তে।
গতকাল ডালাসের এটিএন্ডটি (AT&T) স্টেডিয়ামে আইবেরিয়ান ডার্বিতে লড়াইটা ছিল সমানে সমান। পুরো ম্যাচে আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের লড়াই চললেও গোলখরা কাটছিল না। পর্তুগিজ সমর্থকদের মনে যখন টাইব্রেকারের আশা দানা বাঁধছিল, ঠিক তখনই স্পেনের কাছে সব আলো কেড়ে নিল ৯১ মিনিটের সেই গোলটি।
এক মুহূর্তের শোক, হাজারো ভক্তের কান্না
ম্যাচের বয়স যখন ৯০ মিনিট পার হয়েছে, স্পেনের হয়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা মিকেল মেরিনো যেন পর্তুগিজদের হৃদয়ে ছুরিকাঘাত করলেন। ফেরান তোরেসের পাস থেকে বল পেয়ে সরাসরি পর্তুগালের জালে জড়িয়ে দেন তিনি। আর সেই একটি গোলই তাসের ঘরের মতো ভেঙে দেয় পর্তুগালের কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন।
শেষ মুহূর্তে ফ্রান্সিসকো কনসিকাওয়ের শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে স্টেডিয়ামের ছাদে আছড়ে পড়ার সাথে সাথেই মাঠের ঘাসে বসে পড়েন পর্তুগালের খেলোয়াড়রা। সবার চেয়ে যেন বেশি বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল সিআরসেভেনকে। বিশ্বজয়ের স্বপ্ন নিয়ে যে মানুষটি আমেরিকায় পা রেখেছিলেন, আজ সব অর্জনকে সঙ্গী করে শূন্য হাতে ফিরতে হলো তাকে।
রোনালদোর বিদায়বেলা
এই পরাজয় শুধু পর্তুগালের বিদায় নয়, এটি ফুটবল ইতিহাসের এক মহানায়কের বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ পদচারণা। ৪১ বছর বয়সেও নিজের শেষ বিশ্বকাপে ৩টি গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তাকে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা বলা হয়। উনাই সিমোনের অভেদ্য প্রাচীর এবং স্পেনের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের কাছে আটকে গিয়ে আজ বিদায় নিতে হলো এই কিংবদন্তিকে।
পরিসংখ্যান ও খেলার চিত্র
ম্যাচে স্পেনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ৫৫ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে ১২টি শট নিয়েছে স্পেন, যার বিপরীতে পর্তুগাল নিতে পেরেছে মাত্র ৬টি শট। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোন গড়েছেন ৬১০ মিনিট গোল না খাওয়ার অনন্য রেকর্ড। অন্যদিকে, পর্তুগালের মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগ স্পেনের সুশৃঙ্খল ছকের কাছে হার মানে।
বিদায় বেলায় রোনালদো হয়তো পেয়েছেন সতীর্থদের সান্ত্বনা, কিন্তু তার চোখেমুখে ছিল সেই না পাওয়ার বেদনা। ফুটবল বিশ্ব আজ দেখল এক যুগের অবসান। গ্যালারিতে থাকা হাজারো সমর্থক, যারা তাকে শেষবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে দেখতে চেয়েছিলেন, তাদের চোখের জল আর গোধূলি বেলার বিষণ্ণতা মিলে এক করুণ আবহ তৈরি হয়েছিল ডালাসের আকাশে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়তো আর দেখা যাবে না সেই বিখ্যাত 'সিউ' (Siu) উদযাপন, তবে রোনালদোর লড়াই আর জেদ ফুটবলপ্রেমীদের মনে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।
এই ম্যাচটি কি রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত অবসরের ইঙ্গিত, নাকি তিনি ইউরো বা অন্য কোনো টুর্নামেন্টে আরও কিছুদিন খেলা চালিয়ে যাবেন বলে আপনি মনে করেন?








