কলকাতা, ৮ জুলাই: ভারতের বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘতম সময়ের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর জন্মদিন উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁকে স্মরণ করছেন বামপন্থী কর্মী-সমর্থকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, প্রশাসনিক ভূমিকা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের নানা দিক তুলে ধরা হচ্ছে।
বামপন্থী মহলের একাংশের মতে, জ্যোতি বসুর রাজনৈতিক কৌশল ছিল প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং আক্রমণাত্মক। তাঁদের বক্তব্য, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে তিনি কখনও ‘লো ব্লক ডিফেন্স’-এ বিশ্বাস করেননি; বরং সক্রিয় রাজনৈতিক লড়াই ও আদর্শগত পাল্টা আক্রমণের পথকেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন। অনেকেই সেই রাজনৈতিক অবস্থানকে ফুটবলের ভাষায় ‘৪-৩-৩ আক্রমণাত্মক ছক’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।
সমর্থকদের স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে, রাজনৈতিক বক্তৃতায় জ্যোতি বসুর তীক্ষ্ণ ভাষা এবং দৃঢ় অবস্থান বহুবার বিরোধীদের চাপে ফেলেছিল। তাঁদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিস্তার রুখতে তিনি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে এখনও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
এছাড়াও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে সমর্থকরা স্মরণ করছেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ বা বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধেও তিনি বরাবর সরব ছিলেন। বামপন্থী মহলের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল মূল্যবোধ রক্ষার প্রশ্নে তিনি কখনও আপস করেননি।
৮ জুলাই জ্যোতি বসুর জন্মদিনকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে অসংখ্য শুভেচ্ছাবার্তা, স্মৃতিচারণ এবং রাজনৈতিক মূল্যায়ন প্রকাশিত হয়েছে। বহু বামপন্থী সংগঠন ও সমর্থক তাঁর আদর্শকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের আহ্বান জানিয়েছেন।
জ্যোতি বসুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন আজও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর সমর্থকদের মতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার লড়াইয়ে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।


