মিয়ামি: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফুটবলপ্রেমীরা উপহার পেলেন টানটান উত্তেজনার এক ম্যাচ। নির্ধারিত সময়ে সমতা থাকলেও অতিরিক্ত সময়ে জুড বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত গোলে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, কৌশল এবং বেঞ্চের গভীরতাই গ্যারেথ সাউথগেটের দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই নরওয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের শক্তিশালী শটে প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা। গোলের পর ইংল্যান্ড কিছুটা চাপে পড়লেও দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নেয়। মাঝমাঠে জুড বেলিংহ্যামের নিয়ন্ত্রণ এবং হ্যারি কেইনের মুভমেন্ট ম্যাচের গতি বদলে দেয়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত ফিনিশে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই সুযোগ তৈরি করলেও গোল আসছিল না। এক পর্যায়ে নরওয়ে আবারও বল জালে জড়ায়। তবে গোলটি নিয়ে ভিএআরের দীর্ঘ পর্যালোচনা হয়, কারণ ফাউল ও অফসাইডের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শেষ পর্যন্ত গোলটি বহাল থাকায় মাঠে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ইংল্যান্ড হাল না ছেড়ে ধারাবাহিক চাপ বজায় রাখে এবং ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।
অতিরিক্ত সময় শুরু হওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী মুহূর্ত। নরওয়ের ডিফেন্স ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে রিবাউন্ডে ঝাঁপিয়ে পড়ে বেলিংহ্যাম জোরালো শটে বল জালে পাঠান। এই গোলেই কার্যত শেষ হয়ে যায় নরওয়ের স্বপ্ন।
কৌশলগত বিশ্লেষণ
ইংল্যান্ডের জয়ের অন্যতম কারণ ছিল বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্যশীল আক্রমণ গড়ে তোলা। ম্যাচে তাদের গড় পজেশন ছিল প্রায় ৫৭ শতাংশ, যা নরওয়ের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের প্রত্যাশিত গোল (xG) পরিসংখ্যানও সামান্য এগিয়ে ছিল, যা বোঝায় তারা ধারাবাহিকভাবে মানসম্মত গোলের সুযোগ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে নরওয়ে মূলত দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং এরলিং হালান্ডের ওপর নির্ভর করেছিল। তবে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দৃঢ়তা দেখায়। পুরো টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের রক্ষণ নরওয়ের তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিত ছিল, যা এই ম্যাচেও বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
হ্যারি কেইন গোল না পেলেও তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নরওয়ের একাধিক ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে তিনি বেলিংহ্যামসহ অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য জায়গা তৈরি করেন। শেষদিকে অলি ওয়াটকিনস ও কোল পামারের মতো বদলি খেলোয়াড়দের উপস্থিতিও ইংল্যান্ডের আক্রমণে নতুন গতি এনে দেয়।
ম্যাচের গুরুত্ব
এই পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হলো নরওয়ের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ অভিযান। প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে তারা রাউন্ড অব ১৬-তে ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী স্কোয়াড এবং বেলিংহ্যামের অসাধারণ পারফরম্যান্স তাদের স্বপ্ন থামিয়ে দেয়।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড টানা শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল। এখন শিরোপার পথে আর মাত্র দুটি ধাপ দূরে রয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। জুড বেলিংহ্যামের এই ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স তাঁকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করল।






