লন্ডন: উইম্বলডন ২০২৬-এর প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে সেন্টার কোর্টে রোমাঞ্চকর পাঁচ সেটের লড়াইয়ে প্রাক্তন বিশ্ব তিন নম্বর গ্রিগর দিমিত্রভকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিলেন ব্রিটিশ তারকা আর্থার ফেরি। ৩ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ফেরি জয় পান ৭-৫, ৩-৬, ৪-৬, ৬-৪, ৭-৬ (১০-৭) ব্যবধানে।
এটাই গ্র্যান্ড স্ল্যামে ফেরির প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল, আর ঘরের মাঠে তাঁর এই ঐতিহাসিক জয়ে উচ্ছ্বসিত উইম্বলডনের দর্শকরা।
প্রথম সেট: দুর্দান্ত সূচনা ফেরির
ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী টেনিস খেলেন ফেরি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দিমিত্রভের একটি ডাবল ফল্টকে কাজে লাগিয়ে ৭-৫ ব্যবধানে প্রথম সেট নিজের ঝুলিতে তোলেন তিনি।
দ্বিতীয় সেট: দিমিত্রভের জোরালো প্রত্যাবর্তন
অভিজ্ঞ দিমিত্রভ নিজের ছন্দ ফিরে পান দ্বিতীয় সেটে। শক্তিশালী সার্ভিস ও নিখুঁত ব্যাকহ্যান্ডের সাহায্যে ফেরিকে দু'বার ব্রেক করে ৬-৩ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান।
তৃতীয় সেট: এগিয়ে যান দিমিত্রভ
তৃতীয় সেটেও দিমিত্রভের আধিপত্য বজায় থাকে। প্রথম সার্ভে ৮১ শতাংশ পয়েন্ট জিতে এবং ধারাবাহিক সার্ভিস ধরে রেখে ৬-৪ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান তিনি।
চতুর্থ সেট: লড়াইয়ে ফের ফেরি
চাপের মুখেও হাল ছাড়েননি ফেরি। দুর্দান্ত রিটার্ন ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সার্ভিস ব্রেক করে ৬-৪ ব্যবধানে চতুর্থ সেট জিতে ম্যাচকে নিয়ে যান নির্ধারণী পঞ্চম সেটে।
পঞ্চম সেট: টাইব্রেকে ইতিহাস
শেষ সেটে দুই খেলোয়াড়ই নিজেদের সার্ভিস ধরে রাখায় ম্যাচ গড়ায় সুপার টাইব্রেকে। সেখানে অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়ে ১০-৭ ব্যবধানে টাইব্রেক জিতে নেন ফেরি। দিমিত্রভের একটি ব্যাকহ্যান্ড ভুলের পর আত্মবিশ্বাসী ভলিতে ম্যাচ শেষ করেন ব্রিটিশ তারকা।
ম্যাচের পরিসংখ্যান
দিমিত্রভ ম্যাচে ১৯টি এস মারলেও করেন ৭টি ডাবল ফল্ট, যা শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। অন্যদিকে ফেরি একটিও ডাবল ফল্ট করেননি এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দ্বিতীয় সার্ভ ও ব্রেক পয়েন্টে অসাধারণ স্থিরতা দেখিয়েছেন।
ম্যাচের গুরুত্ব
এই জয়ের ফলে আর্থার ফেরি উইম্বলডন ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেলেন এবং বর্তমানে পুরুষদের এককে টুর্নামেন্টে টিকে থাকা শেষ ব্রিটিশ খেলোয়াড়। অন্যদিকে ঘাসের কোর্টে দারুণ সুনাম থাকা গ্রিগর দিমিত্রভকে হতাশ হয়ে বিদায় নিতে হলো, যদিও তাঁর লড়াই প্রশংসা কুড়িয়েছে।
উইম্বলডনের ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে আর্থার ফেরির ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় জয়, যা তাঁকে ব্রিটিশ টেনিসের নতুন মুখ হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করল।



