বারুইপুর, ১৩ জুলাই: বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর সংঘটিত অশান্তির মামলায় সিপিআই(এম)-এর নেতা তথা বারুইপুর পশ্চিমের প্রাক্তন বিধানসভা প্রার্থী মহম্মদ লাহেক আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার তাঁকে বারুইপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রবিবার গভীর রাতে লাহেক আলীকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিক্ষোভ ও পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটে, তাতে তিনি উসকানিমূলক ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই ঘটনার তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
তবে গ্রেফতারের পর থেকেই এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে সিপিআই(এম)। আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে মহম্মদ লাহেক আলী বলেন, "আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অপরাধেই আমাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। সত্যের জয় হবেই।"
সিপিআই(এম)-এর রাজ্য নেতা সুজন চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে গণপ্রতিবাদকে দমন করতেই সরকার বিরোধী নেতাদের নিশানা করছে। তাঁর দাবি, লাহেক আলী আন্দোলনের সময় প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন। অথচ তাঁকেই গ্রেফতার করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই প্রমাণ।
বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে। সিপিআই(এম) জানিয়েছে, তারা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলনও চালিয়ে যাবে এবং লাহেক আলীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তুলবে।
অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না।
উল্লেখ্য, এটি মামলার তদন্তপর্বের একটি ধাপ মাত্র। আদালত এখনও কোনও দোষী বা নির্দোষের রায় দেয়নি। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে চার্জশিট দাখিল এবং বিচারপ্রক্রিয়া এগোবে।


