রানীগঞ্জ : যে মনীষী সারাজীবন জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন, আজ তাঁরই মূর্তিকে এভাবে রাতের অন্ধকারে সরিয়ে দেওয়াটা শুধু চুরির ঘটনা নয়, এটি যেন রাণিগঞ্জের সংস্কৃতির বুকে এক গভীর আঘাত। রাণিগঞ্জের পাঞ্জেমোড়ে রাহুল সাংকৃত্যায়নের মূর্তির বেদিতে এখন কেবল শূন্যতা। এই ঘটনায় রাণিগঞ্জের বুদ্ধিজীবী মহল ও সাধারণ মানুষ চরম অপমানিত বোধ করছেন এবং তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
স্মৃতির অপমানে চোখের জল স্থানীয়দের
স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিতে আজও অম্লান সেই দিনগুলো, যখন রাস্তা সম্প্রসারণের প্রয়োজনে পরম শ্রদ্ধায় মূর্তিটিকে সাময়িকভাবে রাণিগঞ্জ গার্লস কলেজে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। রাস্তা তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পর, সেই একই জায়গায় পুনরায় মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল। আজ সেই বেদিতে মূর্তিটি না দেখে এলাকার মানুষের চোখে জল আর মনে তীব্র যন্ত্রণা। তারা এটিকে কেবল মূর্তি সরানো নয়, বরং এক মহান ব্যক্তিত্বের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন।
প্রশাসনের নীরবতায় সন্দেহের দোলাচল
সবচেয়ে আশ্চর্যের ও বেদনার বিষয় হলো, মূর্তি চুরির এত বড় ঘটনার পরও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সম্পূর্ণ 'অজ্ঞ'। সচেতন নাগরিকরা যখন ঘটনার কারণ জানতে ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় দোকানদারদের কাছে যাচ্ছেন, তখন সবাই একই কথা বলছেন—রাত ১০টার পর তারা কিছুই জানেন না। রাতের অন্ধকারে পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে কীভাবে একজন মহান ব্যক্তিত্বের মূর্তি উধাও হয়ে গেল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এক গভীর সংশয় ও ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে।
বিচার ও জবাবদিহির দাবি
এই ঘটনার পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। বুদ্ধিজীবী মহল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যারা এই দুষ্কর্মে লিপ্ত, তারা আসলে রাণিগঞ্জের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকেই আঘাত করতে চেয়েছেন। অবিলম্বে এই মূর্তি উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।


