জবলপুর:
কানহা টাইগার রিজার্ভে একের পর এক বাঘের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে এবং ক্যানাইন ডিস্টেম্পার ভাইরাস (CDV) সংক্রমণ রুখতে রাজ্য সরকারকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি আনন্দ পাঠক এবং বিচারপতি বি পি সিং-এর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে যে, বাঘের সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ
মামলার শুনানিকালে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্পষ্টভাবে রাজ্য প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছে, "পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালন করবে। রাজ্যের সমস্ত টাইগার রিজার্ভের ওপর কড়া নজরদারি রাখতে হবে। যখনই এবং যেখানেই প্রয়োজন হবে, টিকাকরণ কর্মসূচি (Vaccination Drive) চালিয়ে যেতে হবে, যাতে বাঘের মতো বন্যপ্রাণীদের এই ধরনের প্রাকৃতিক বা স্বাস্থ্যজনিত বিপর্যয় থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়।"
মামলার প্রেক্ষাপট
কানহা টাইগার রিজার্ভে সাম্প্রতিক সময়ে বাঘের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেছিলেন সুবিত চক্রবর্তী। আবেদনকারীর অভিযোগ ছিল:
নিয়ম লঙ্ঘন: বাঘের মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের (NTCA) নির্ধারিত বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি এবং নজরদারি প্রোটোকল যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না।
সিডিভি (CDV) আতঙ্ক: আবেদনকারীর দাবি, এই মৃত্যুর পেছনে অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস সিডিভি-র হাত রয়েছে। এনটিসিএ আগে থেকেই এই ভাইরাসের বিপদ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল, কিন্তু বনদপ্তর তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেয়নি।
পরিকাঠামোর অভাব: মামলায় দাবি করা হয়েছে, টাইগার রিজার্ভগুলোতে নজরদারি, রোগ নির্ণয় (Disease Surveillance), এবং অসুস্থ বাঘের শুশ্রূষার ক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত গাফিলতি রয়েছে।
রাজ্য সরকারের দাবি
আদালতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার যথেষ্ট তৎপর। ইতিমধ্যেই সিডিভি সংক্রমণ রুখতে প্রায় ২০০০ বাঘকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বনদপ্তরের কর্মীরা নিয়মিত বাঘেদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছেন এবং কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা নজরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আবেদনকারীর সওয়াল
আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের 'টি এন গোদাবর্মণ তিরুমুলপাদ বনাম ভারত সরকার' মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত বনকর্মী নিয়োগ এবং টাইগার রিজার্ভগুলোর সামগ্রিক উন্নয়নে মানবসম্পদ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। আবেদনকারীর মতে, যেহেতু মধ্যপ্রদেশ একটি 'টাইগার স্টেট', তাই এখানে বাঘের সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
আদালত রাজ্য সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা ও প্রোটোকল অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিয়েছে। একইসঙ্গে, আগামী ১৭ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।
হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে মধ্যপ্রদেশের সমস্ত টাইগার রিজার্ভে এখন নতুন করে সতর্কতা জারি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাঘের মৃত্যু রোধে এবং সামগ্রিক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে রাজ্যের বনদপ্তর কতটা সক্রিয় হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


