জেলের ফটক পেরিয়ে খোলা আকাশের নিচে ফুল্লরা মণ্ডল...
(লেখা- Sudipta Bose)
সুবর্নেরেখার পাড়ে,লাল মাটির জঙ্গলমহলে এক সাহসী পর্বের অনেক রূপকথার মত লড়াইয়ের স্নেহময়ী অভিভাবক ফুল্লরা মণ্ডল।দীর্ঘ ১১ বছরের বেশি সময় পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বাইরে এসে দাঁড়ালেন তিনি।
তাঁকে ঘিরে সেই চেনা রঙ। তাঁকে ঘিরে সেই চেনা পতাকা যার টানে, যাকে ঘিরে সেই স্বপ্নের বুনন সেই কোন ছোট্টবেলায় তাঁকে টেনে নিয়ে এসেছিল এই চেনা রঙের ভিড়েই.. জঙ্গলখন্ডে মানুষের অধিকারের লড়াই লড়তে লড়তেই জীবনের উপান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন এই মহিয়সী।
সব, প্রায় সব কিছুই হারিয়েছেন শেষ এক দশকে।জেল জীবনেই পেয়েছেন মাতৃ বিয়োগের যন্ত্রণা, পেয়েছে দাদার মৃত্যুর খবর। অন্ধকার কুঠুরিতে বসে তবুও জীবনের ওপর বিশ্বাস হারাননি, লাল ঝাণ্ডার প্রতি আস্থা এতটুকুও টোল খায়নি, খেতে দেননি...কারণ ফুল্লরা মণ্ডলদের ব্যক্তিজীবন আর রাজনৈতিক জীবন অবিভাজ্য।
গোরু চোরদের, চাকরি চোরদের জেলে থাকা, খাওয়া নিয়ে এখন কত স্টোরি হয়! পর্ষদের অপসারিত সভাপতি পালিয়ে বেড়াচ্ছে! এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বাড়ি আবার সিল করেছে সিবিআই, ছাদে বসে থাকছেন! আর প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তো আবার বান্ধবীর সঙ্গে জেলে!
বদলে যাওয়া এক দশকের বাংলায় সত্যি কিছুটা বেমানান ফুল্লরা মণ্ডলদের ক্যানভাস....আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং তা শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা একটা অনুশীলন...
দালবদলুদের এই পৌষ মাসে এসব গল্প সত্যি " এক্সেস কপি "!
খোলা আকাশের নিচে সত্তর ছুঁতে চলা প্রৌড়া..শরীর ভেঙেছে, জেল জীবনে কত অসুখ নতুন করে হয়তো দানা বেঁধেছে...
কিন্তু তাঁর রাজনীতির জোর, তার মানসিক দৃঢ়তা কমেনি, এতটুকুও কমেনি, আছে অটুট, আরো লক্ষ চেতনায় নিশ্চিত রঙমশাল জ্বালাবে তা...
কুর্নিশ আপনাকে ফুল্লরা দি, জানি ব্যক্তি প্রচার তীব্রভাবে অপছন্দ, তবুও আজকের দিনে এটুকু অন্তত বলতে দিন আমাদের ।
হতাশা নামক বস্তু যখন আমাদের শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনকে গ্রাস করতে আসে, রাজনীতির জোয়ার ভাঁটা যখন অবস্থান নিতে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে, সুগভীর হৃদের জায়গায় যখন অগভীর পুকুরের অভিনয় করে চলি আমরা, তখন, ঠিক তখনই আপনি যেন এসে দাঁড়ান আমাদের চেতনার সামনে...
দোলাচল হার মানে, বিশ্বাস আরো জোরালো হয়...
মেদিনীপুর জেল চত্বরে সকালে তখন সুশান্ত ঘোষ সহ জেলা পার্টি নেতৃত্ব, ফুলের মালা, অনন্তভেদী স্লোগান - কমরেড ফুল্লরা মণ্ডল লাল সেলাম.....ইতিহাসের এক পর্ব লেখা চলছে, চলুক তা।




