" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘট পরিবেশ বাঁচানোর লক্ষ্যে সংগ্রাম //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘট পরিবেশ বাঁচানোর লক্ষ্যে সংগ্রাম

বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘট কেন?
                        (পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ)
viewsnow.co.in world climate
World climate strike



আগামী ২৩ শে সেপ্টেম্বর ' বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘট ' আহ্বান করেছে বিশ্ব পরিবেশ আন্দোলনের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব গ্রেটা থুনবার্গ - দের সংগঠন ' ফ্রাইডেস ফর ফিউচার ' । সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্কুলপড়ুয়া থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করবেন । পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ সারা রাজ্য জুড়ে সর্বস্তরের মানুষকে এই ধর্মঘটে সামিল হতে আহ্বান জানাচ্ছে । আমরা আবেদন করছি যে , ওই দিন রাজ্যের সর্বত্র টিফিনের সময় স্কুল বা কর্মক্ষেত্র থেকে মানুষ বেরিয়ে এসে মানব বন্ধনের মধ্যে দিয়ে জলবায়ু ধর্মঘট সফল করুন । বিপন্ন বিশ্ব পরিবেশ । বিশ্ব উষ্ণায়ন জনিত আবহাওয়া পরিবর্তন আজ তামাম বিশ্বের মনুষ্য সভ্যতার অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে ।

 আবহাওয়া পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে খরা , বন্যা , দাবানল , হিমবাহ গলন , সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি , সাইক্লোন , জলসঙ্কট , রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি , কৃষি উৎপাদন হ্রাস , সর্বোপরি মানুষের জীবন - জীবিকার ওপর তীব্র সংকট নামিয়ে এনেছে । প্রশান্ত মহাসাগরীয় ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলি থেকে আটলান্টিকের ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ হয়ে সুন্দরবনের দ্বীপাঞ্চল সহ সমগ্র পৃথিবীর উপকূলবর্তী অঞ্চল আজ জলমগ্নতার আশঙ্কায় বিপন্ন । এই সুতীব্র সংকটের সবথেকে বড় প্রভাব পড়ছে সারা বিশ্বের গরিব মেহনতী মানুষ , আদিবাসি মানুষ , জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষ , বৃদ্ধ - মহিলা এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষজনের ওপর । মানুষের সীমাহীন লোভ , ভোগলিপ্সা , প্রাকৃতিক সম্পদের বল্গাহীন লুণ্ঠন আজ মনুষ্য সভ্যতাকে লাল সংকেতের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে । উপনিবেশবাদী দেশগুলি বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক সম্পদের লুটতরাজ করেছে । 

পুঁজিবাদী দুনিয়ার ধনী দেশগুলি , কর্পোরেট সংস্থাগুলি সীমাহীন মুনাফার স্বার্থে , লুটেরা আর্থিকনীতির মাধ্যমে দেশে দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করছে । এই লুট করা প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়ে ভোগ্যপণ্য তৈরি করতে কারখানার চিমনি দিয়ে কার্বন - ডাই - অক্সাইড সহ গ্রিন হাউস গ্যাস বাতাসে নির্গমন করছে , যার ফল স্বরূপ বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং আবহাওয়া পরিবর্তন । সম্পদের এই অসম বন্টনে একদিকে যেমন বিশ্বজুড়ে বাড়ছে দারিদ্র্য , কর্মহীনতা অন্যদিকে যাবতীয় সম্পদ মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে জমছে । পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মুনাফা এবং বল্গাহীন ভোগের স্বার্থে সম্পদের এই সীমাহীন অসমবন্টন ব্যবস্থাই আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য দায়ী । ঐতিহাসিকভাবে বাতাসে কার্বনডাইঅক্সাইড এবং গ্রিন হাউস গ্যাসের নির্গমনের জন্য মূল দায়ী ধনী রাষ্ট্রগুলি । ঐতিহাসিকভাবে উপনিবেশবাদী রাষ্ট্রগুলিকে আজকের এই সভ্যতা বিপন্নতার দায় নিতে হবে । ধনী দেশগুলিকে লুণ্ঠিত দেশগুলির জন্য দিতে হবে ক্ষতিপূরণ যাতে এই বিপন্নতার সময় সেই সব দেশগুলি আবহাওয়ার পরিবর্তন জনিত সংকট মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে । মুনাফা নয় বড় করে দেখতে হবে মানুষকে । 

যে লুণ্ঠনের এবং ভোগের ব্যবস্থা আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সংকট কে ডেকে আনে , পরিবর্তন করতে হবে সেই ব্যবস্থাটাকেই - এই দাবি করছে ' ফ্রাইডেস ফর ফিউচার ' । নাহলে এ বিশ্বের আর কোনও ভবিষ্যৎ নেই । ২০১৫ সালে প্যারিসের সিওপি -২১ , প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছিল যে , এই শতাব্দী শেষ হবে প্রাক শিল্পবিপ্লবের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে । তারজন্য যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে । সেই মোতাবেক চুক্তিও হয় কিন্তু এখন অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক । আইপিসিসি ( ইন্টার গভর্ণমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ ) এর সর্বশেষ ষষ্ঠ প্রতিবেদন অনুযায়ী আগামী দুই দশকের মধ্যেই ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি হতে চলেছে । নাসা এই প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বলেছে , ভারতের ১২ টা শহর গড়ে ৩ ফুট জলের তলায় তলিয়ে যাবে আগামী দশকের শেষে , যার মধ্যে কলকাতার খিদিরপুরও রয়েছে ।

 কি ভয়াবহ অবস্থা ! 

বিশ্বের গড় তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে তা আতঙ্কের । অনেক দেরি হয়ে গেছে , এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে আয়ত্তের মধ্যে রাখতে গেলে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে বিশ্বের রাষ্ট্রগুলিকে । আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলির বোঝাপড়া এবং চুক্তিগুলিকে অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে । আন্তর্জাতিক স্তরে আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত প্রতিবেদন গুলিকে মান্যতা দিয়ে দেশগুলির অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে হবে এবং এই সংকট মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট নীতি নির্দ্ধারণ করে তাকে কার্যকর করার ভূমিকা নিতে হবে অবিলম্বে ।

আমাদের দেশের সরকার ২০২০ সালে ' এনভায়রনমেন্ট ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট ' কে কার্যত লঘু করে দিল , ২০২২ সালে আদিবাসীদের বনাঞ্চলের অধিকার আইনকে খর্ব করল , পরিবেশ আইন ১৯৮৬ , বায়ু দূষণ আইন ১৯৮৭ , জল দূষণ আইন ১৯৭৪ কে খর্ব করল । উন্নয়নের নামে পরিবেশ আইনগুলির রক্ষা কবচ ভেঙে চুরমার করার নীতি গ্রহণ করা হলো । আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই । আমাদের রাজ্যে উন্নয়নের নামে কার্বন শোষণকারী জলাভূমি নির্বিচারে ভরাট করা হচ্ছে , অরণ্যচ্ছেদন করা হচ্ছে । পুরুলিয়ার তিলাবনি পাহাড়কে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে , দেউচা - পাঁচামির খনি পরিকল্পনা না করেই আদিবাসীদের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে , ফরাক্কায় আদানি গোষ্ঠীর কেবল লাইন পাতার জন্য হাজার বিঘার আম - লিচু বাগান কেটে সাফ করা হয়েছে । জাতীয় পরিবেশ আদালতের রায় সত্বেও উত্তর ২৪ পরগনার লেকটাউনের নয়ান জুলি ফেরত পাওয়া যায় নি , হাইকোর্টে মামলা করা সত্ত্বেও বিরাটির ৯৭ কাঠা জোড়াপুকুর ভরাটের কাজ চলছে । 

মুর্শিদাবাদের চালতিয়া - বিষ্ণুপুর বিল সংরক্ষণের দাবিতে অনশনরত সংগঠনের কর্মীদের জেলে পোরা হয়েছে , দ্বারকেশ্বর নদী গর্ভে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সভার অনুষ্ঠান চলেছে মঞ্চ নির্মাণ করে - এ ব্যাপারে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা করা হলেও তেমন সুরাহা হয়নি । ডুয়ার্সের লাটাগুড়িতে হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে , সেখানেও জাতীয় পরিবেশ আদালতে সংগঠন মামলা করেছিল কিন্তু তার কোনো সুরাহা হয়নি । অবিলম্বে কয়লা পেট্রোলিয়াম প্রাকৃতিক গ্যাস অর্থাৎ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে সৌর , বায়ু , ছোট জল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র অর্থাৎ অচিরাচরিত শক্তির পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং এমন গবেষণা ও পরিকল্পনার পথ নিতে হবে যাতে অদূর ভবিষ্যতে অচিরাচরিত শক্তিই মূল শক্তির ভান্ডার হয়ে উঠতে পারে । কল কারখানা থেকে গ্রিন হাউস গ্যাসের উদগীরণ দ্রুত কমিয়ে আনতে হবে । বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে শক্তির ব্যবহার কমিয়ে এনে বিকল্প ব্যবস্থায় কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে বিকল্প প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে । ধীরে ধীরে গণ পরিবহন ব্যবস্থার ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে । 

ব্যক্তি জীবনে শক্তির ব্যবহার এবং কার্বনডাইঅক্সাইড বা গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনার মতো শৃঙ্খলা গড়ে তুলতে হবে । সার্বিকভাবে এই সংকট মোকাবিলায় আর্থ - সামাজিক - রাজনৈতিক - সাংস্কৃতিক ব্যবস্থাটাকে আপাদমস্তক বদলে নতুন পথে চলার শপথ গ্রহণ করতে হবে আজ , নাহলে বিজ্ঞানীরা যে আশঙ্কা করেছেন ষষ্ঠ প্রজাতি বিলোপের , সেই আশঙ্কাই সত্যি হবে । আমরা কি তা হতে দিতে পারি ? না কখনোই পারি না । মানুষ যখন এই অবস্থা তৈরি করেছে মানুষই পারবে এই অবস্থাকে দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে ।

দাবি সমূহ:

  • গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এর মধ্যে বেঁধে রাখতে হবে । 
  • আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং চুক্তি মেনে সব দেশকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে । 
  • অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে অচিরাচরিত শক্তির পরিমাণ বাড়াতে হবে ।
  •  অনুন্নত দেশগুলিকে সংকট মোকাবিলায় ধনী দেশগুলিকে অর্থপ্রদান করতে হবে ।
  •  তিলাবনি পাহাড় বিক্রি করা চলবে না । দেউচা - পাঁচামির কয়লাখনি পরিকল্পনা না করে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা চলবে না ।
  •  জলাভূমি , অরণ্য সম্পদ বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ করতে হবে । সুন্দরবনকে রক্ষার জন্য অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারকে মাস্টার প্ল্যান ঘোষণা করতে হবে । 
  • পরিবেশ আইনসমূহ এবং অরণ্যের অধিকার আইনকে বদলানো চলবে না ।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies