১৯৬৬ সালের ৩ রা মে পথ চলা শুরু হয়েছিল যে সংগঠনের আজ পদার্পন করলো ৫৮ তম বর্ষে, হিন্দুস্তান স্টিল এমপ্লইজ ইউনিয়নের এ এস পি শাখার প্রতিষ্ঠা দিবস পালন হলো দুর্গাপুরের তিলক রোডে ইউনিয়ন অফিসে।ইউনিয়নের যুব শ্রমিক শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো সান্ধ্যকালীন রক্তদান শিবির মূলত থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের সাহায্যার্থে দুর্গাপুর সাব ডিভিশনাল ব্লাড ডোনার ফোরামের সহযোগিতায় দুর্গাপুরের এস ডি হাসপাতালের মাধ্যমে এই শিবির আয়োজিত হয়।
বহু মানুষের উপস্থিতিতে এই শিবিরের জৌলুশ আরো বাড়িয়ে তোলে , ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অর্ধেন্দু দাক্ষি এর উপস্থিতিতে রক্তদান শিবিরের সূচনা হয়।উপস্থিত ছিল দুর্গাপুরের ইস্পাত অঞ্চলের গণ আন্দোলনের বহু নেতৃত্ব ও প্রাক্তন নেতৃত্ব।শিবিরের শুরুতেই সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুরে পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক সন্তোষ দেব রায় এছাড়াও সিআইটিইউ এর রাজ্য নেতৃত্ব বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ,ছিলেন এস ডাবলু এফ আই র সাধারণ সম্পাদক ললিত মোহন মিশ্র।
রক্তদান শিবিরে ব্যাপক উৎসাহ চোখে পড়ার মতন ছিল, বিকেল থেকেই ভিড় জমিয়েছিল রক্তদাতারা।শিবিরে মহিলাদের উপস্থিতি বেশ চোখে পড়ার মতন ছিল।শিবিরে মত ৩৩ জন রক্তদাতা ছিলেন যার মধ্যে ৭ জন ছিলেন মহিলা।
রক্তদান শিবির চলাকালীন লহরী গণসংগীতের ডালি নিয়ে হাজির ছিল।তাদের সুর মূর্ছনায় এলাকায় এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি করে।এরপরে সভা শুরু হয় সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক নেতা বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ।সভায় বক্তব্যা রাখেন এ এস পি ইউনিয়নের কনভেনর নবেন্দু সরকার।
সভার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্ধেন্দু দাক্ষি বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব জুড়ে ইউনিয়নের ভূমিকা ও তাদের সংগ্রামের চিত্রপট তুলে ধরেন, বেতন বৈষম্যের যে রূপ শ্রমিকশ্রেণীকে বিভক্ত করছে তার সুস্পষ্ট উদাহরণ সহকারে ব্যাখ্যা করেন।তিনি বলেন রাজয়কিনবা কেন্দ্রে এমন সরকার অধিষ্ঠান করছে যাদের শ্রেণী চরিত্র একটাই শ্রমিকশ্রেণীকে বিভক্ত করে মালিকশ্রেণীর মুনাফা বৃদ্ধিকে সাহায্য করছে।প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ।বর্তমানে শ্রমিক শ্রেণীর অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চলছে দেশে একদিকে স্থায়ী শ্রমিক কমছে আরেক দিকে ঠিকা শ্রমিক বাড়ছে।ফলস্বরুক বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।এমন অবস্থায় শ্রমিক তার চরিত্র বজায় রাখতে আসমুদ্র হিমাচল ঐক্যের চিত্র তুলে ধরতে হবে তবেই চাপ সৃষ্টি করা যাবে ।
আজকের অনুষ্ঠানে বহু প্রাক্তন ইউনিয়নের কর্মী কিংবা নেতৃত্বের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।





