তৃণমূল দুষ্কৃতীদের আক্রমণে সোমবার বিকেলে আউসগ্রাম (অযোধ্যা পাড়া) পশ্চিমপাড়ার সিপিআই(এম) কর্মী সঞ্জীব কুমার মন্ডলকে (বয়স ৩৫) নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। তাঁর বাবা সিদ্ধেশ্বর মন্ডল সিপিআই(এম) গুসকরা পশ্চিম এরিয়া কমিটির প্রাক্তন সদস্য ও প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান। ২০১১ সালের পরবর্তী সময়ে এই পরিবারে একাধিকবার আক্রমণ করা হয়, ভাঙচুর করা হয় এবং লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পত্তি লুটপাট করা হয়।
এতো কিছুর পরেও কিন্তু মাথা নত করেননি সিদ্ধেশ্বর মন্ডল। এমনকি তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে গয়না লুট করে নিয়ে যায় তৃণমূলীরা।
আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন সিদ্ধেশ্বর মন্ডল যখন এলাকার মানুষকে সংগঠিত করছেন এবং বামপন্থীদের পক্ষে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থী নির্বাচনে ভূমিকা নিচ্ছেন ঠিক সেই সময় এলাকা সন্ত্রস্ত করতেই তাঁর পুত্রকে আক্রমণ করা হয় এবং খুন করা হয়।
গতকাল তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা সঞ্জীবকে তার বাড়ির পাশের একটি ঠেকে ডেকে নিয়ে যায় এবং তারপর গলায় ফাঁস লাগিয়ে খুন করে তৃণমূল দুষ্কৃতীরা। বিকেল পাঁচটা নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ তৃণমূল ঐ ঠেকে নিয়মিত মদের আসর বসায়, সেখানেই তাকে ওরা খুন করেছে।
আজ সকালে খবর পেয়ে সিপিআই(এম) পূর্ব বর্ধমান জেলার সম্পাদকমন্ডলীর দুই সদস্য তাপস সরকার, অপূর্ব চ্যাটার্জি এবং গুসকরা পশ্চিমে এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুরেন হেমব্রম সহ অসংখ্য কর্মী তাঁর বাড়িতে পৌঁছান। এলাকার মানুষের দাবি থানার ১০০ মিটারের মধ্যে কি করে এই মদের ঠেক চলে এবং দিনের বেলায় কি করে এই খুন সংগঠিত হলো? সিপিআই(এম) পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক সৈয়দ হোসেন এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করে অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে পাঁচজন গ্রেফতার হলেও মূল আসামীকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাই মূল পান্ডাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ও এলাকায় নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে পার্টির নেতৃত্বে মিছিল সংগঠিত হবে আজ বিকালে।


