LBH Brake Van বস্তুটা কি আমি জানতাম না । হয়তো আপনিও জানতেন না । ভারতীয় রেলের নিজস্ব সাইট থেকেই পড়লাম । আরো বেশি সুরক্ষা এবং সাচ্ছন্দ্যের জন্য ভারতীয় রেল ২০০০ সালে এই ধরনের কোচ প্রবর্তন করেন । এই ধরনের কোচ তৈরি করেছিলেন জার্মানির Linke-Hofmann-Busch সংস্থা । সেই থেকেই এই নামকরণ ।*
এই জাতীয় কোচগুলো প্রথম চালু করা হয় ২০০২ সালে, শতাব্দী এক্সপ্রেসের জন্য । বর্তমানে শুধুমাত্র প্রিমিয়াম এ.সি. কোচের জন্যই, যেমন কিনা রাজধানী এক্সপ্রেস, শতাব্দী বা দুরন্ত এই ধরনের ট্রেনের ক্ষেত্রেই এই LBH কোচ ব্যবহার করা হয় । এমন বাছবিচার করার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে এই কোচগুলি খুবই ব্যায়সাধ্য, প্রায় দু কোটি টাকার মতো।*
এই কোচের বিশেষত্ব হিসেবে ওই সাইটে যা বলা হয়েছে এগুলি ঘন্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিবেগের জন্য তৈরি করা হয়ে থাকে । এমনকি ঘন্টায় ১৮০ কিঃমিঃ পর্যন্ত এর ক্ষমতা পরীক্ষিত হয়েছে । কোচগুলি এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে দুর্ঘটনা ঘটলেও সহজে ভেঙেচুরে দুমড়ে মুচড়ে না যায় । কোচগুলি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয় এবং একটি কোচের সঙ্গে অন্য কোচের সংযোগটিও হয় উন্নততর । সাসপেনশন সিস্টেম উন্নততর হওয়ার কারণে ট্রেন চলার সময়ে ঝাঁকুনি দুলুনি ইত্যাদি কম হয় । ইত্যাদি ইত্যাদি ।*
বালাসোরের কাছে যে ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ করোমন্ডল এক্সপ্রেসে নাকি এই LBH কোচ ছিলো না । দুর্ঘটনাটিতে নাকি তিনশোরও বেশি মানুষ মারা গেছেন । আহত হয়েছেন আরো প্রায় হাজারের কাছাকাছি দুর্ভাগ্যজনক । হয়তো এই জাতীয় কোচ থাকলে দুর্ঘটনাটা এমন ভয়ংকর হয়ে উঠতো না । কিন্তু তাই বলে তো আর সব ট্রেনে অতো দামী কোচ লাগানো যায় না । এতো খরচ জোগাবেন কে ? একে নতুন সংসদভবন তৈরি করতে গিয়ে এতোগুলো টাকা খরচ হয়ে গেছে । এতে করে তো বিশ্বের দরবারে দেশেরই মুখ উজ্জ্বল হয়েছে । দেশের সুনামের জন্য এটুকু তো করতেই হয় ।*
দুর্ঘটনার কবলে পড়া অসহায় মানুষগুলোর সাহায্যের জন্য সবচাইতে প্রথমে দৌড়ে গেছেন স্থানীয় মানুষরা । তার একমাত্র কারণ হল তাঁরা "মানুষ" । আপনি টিভি-র পর্দায় মানুষের ওই আর্তনাদ বেশিক্ষণ শুনতে না পেরে টিভি বন্ধ করে দিয়েছেন কেননা আপনি "মানুষ" । খবর শুনতে শুনতে যদি আপনার মনে হয়ে থাকে - আহারে যদি এই ট্রেনগুলোতে ওই দামী কোচগুলো লাগানো থাকতো তাহলে হয়তো আজ এতোগুলো মানুষ বেঘোরে মারা যেতেন না ! সে আপনি ভাবতেই পারেন কারন আপনি মানুষ।


