ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪
আজ বিজয় দিবস, তবে এবারের পরিস্থিতি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম চ্যালেঞ্জপূর্ণ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাত হওয়ার পর দেশজুড়ে সংঘর্ষ, খুন, এবং সংখ্যালঘুদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সরকার প্রধান ড. ইউনুসের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পুনর্লিখনের উদ্যোগ এবং পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের ঘোষণা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজয় দিবসের এই পবিত্র দিনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার প্রচেষ্টা ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির উত্থান সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জামাত-শিবির বিজয় দিবস পালনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কোথাও কোথাও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দিবসের অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে।
তবে এমন পরিস্থিতিতেও দেশপ্রেমিক জনগণ শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পিছপা হয়নি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা আয়োজনের মাধ্যমে বিজয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল নেমেছে, যারা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
আজকের দিনটি আরও স্মরণীয়, কারণ ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে বাংলাদেশের সূর্যসন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতিতে যুক্ত থাকা শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, এবং বুদ্ধিজীবীদের টার্গেট করে সেই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে, জাতি একদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার শপথ নিচ্ছে, অন্যদিকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবসের এ দুটো দিনে জাতি তার সংগ্রামের ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরেছে।
দালালদের কোনো ক্ষমা নেই। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস অমর হোক, বিজয় দিবস চিরন্তন সম্মানের প্রতীক হয়ে থাকুক!


