ইতিহাসের পাতায় আজ: ১৯৬৮ সালের করামেহের যুদ্ধ
২১ মার্চ, ১৯৬৮। এই দিনটি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জর্ডানের করামেহ শহরে পনেরো ঘণ্টার এক তীব্র যুদ্ধ ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা (পিএলও) এবং জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সাক্ষী হয়।
ইসরায়েলি বাহিনী ফাতাহ পরিচালিত একাধিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতে করামেহ আক্রমণ চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পিএলও-র ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করা এবং এর নেতা ইয়াসির আরাফাতকে বন্দি করা। ইসরায়েলের হাজারো সৈন্য, ট্যাঙ্ক, এবং ভারী গোলন্দাজ বাহিনী নিয়ে আক্রমণের মুখোমুখি হয় ফিলিস্তিনি এবং জর্ডানের যৌথ প্রতিরোধ। ফিলিস্তিনি গেরিলা যোদ্ধারা কৌশলগত প্রতিরোধ এবং জর্ডানের গোলাবর্ষণ ইসরায়েলি অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়।
যুদ্ধের ফলে দুই পক্ষেই প্রচুর প্রাণহানি ঘটে। তবে, করামেহের যুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রতীকী বিজয়ে পরিণত হয়। এই যুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রমাণিত হয়, যা আরব বিশ্বজুড়ে পিএলও-র প্রতি সমর্থনকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। যুদ্ধের পরপরই ফিলিস্তিনি যুবকদের মধ্যে ফাতাহ-তে যোগদানের প্রবণতা বেড়ে যায়।
এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনিদের বিষয়টিকে শুধুমাত্র শরণার্থী সংকট থেকে রূপান্তরিত করে একটি রাজনৈতিক রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে পরিণত করে। যুদ্ধে ইসরায়েল করামেহ শিবির ধ্বংস করলেও, এই প্রতিরোধ তাদের সামরিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে।
তবে করামেহের যুদ্ধ ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনে প্রভাব ফেললেও, পরবর্তী সময়ে জর্ডানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর ফলে ১৯৭০ সালে "ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর" নামে পরিচিত ঘটনাগুলোর সূত্রপাত হয়।
আজকের দিনে করামেহের যুদ্ধ প্রতিরোধ, ঐক্য এবং জাতীয়তাবাদের প্রতীক হয়ে ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করছে। এটি দেখিয়েছিল যে প্রতিকূলতার মধ্যেও সাহসিকতা এবং ঐক্য কীভাবে একটি আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে পারে।



