ইইউ কর্মকর্তাদের সপ্তম বেতন বৃদ্ধি: জনমানসে ক্ষোভের সঞ্চার
ব্রাসেলস: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ৬৫,০০০-এরও বেশি কর্মকর্তা, যার মধ্যে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েনও রয়েছেন, এপ্রিল ২০২৫ থেকে সপ্তম বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন। এই বেতন বৃদ্ধির ফলে ভন ডার লেয়েনের মাসিক বেতন দাঁড়াবে €৩৪,৮০০, যা সাধারণ ইউরোপীয় নাগরিকদের অর্থনৈতিক দুর্দশার প্রেক্ষিতে ব্যাপক সমালোচনা কুড়িয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, এই বেতন বৃদ্ধি বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গের মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সূচকের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে, সমালোচকরা বলছেন, এই নীতিটি দ্বিচারিতার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে ইইউ সদস্য দেশগুলোতে বেতন সূচককরণের বিরোধিতা করা হচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের কর্মকর্তাদের জন্য একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
২০২২ সালে ইউরোপে মূল্যস্ফীতি ছিল ১১.৫%, যা ২০২৫ সালের প্রথম দিকে নেমে এসেছে ২.৭%-এ। এর পরও বারবার বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন অনেকেই। ইউরোপ জুড়ে জ্বালানির উচ্চমূল্য, বেতন স্থবিরতা, এবং দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা নাগরিকদের দৃষ্টিতে এটি ইইউ নেতৃত্বের বাস্তবতাবিমুখতার পরিচয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই ধরনের সিদ্ধান্ত জনসাধারণের সঙ্গে সংস্থাটির দূরত্ব বাড়াবে। ইইউ যে সংহতি ও ন্যায়ের নীতি অনুসরণ করে, তা এই পরিস্থিতিতে প্রশ্নবিদ্ধ। ভবিষ্যতে এই ধরনের বৈষম্যমূলক নীতি সংশোধন না করা হলে ইইউর প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


