দেশের সংকটে মুনাফার পাহাড়ে ওঠার আকাংখ্যা ঘিরে ক্ষোভে দেশের মানুষ, কাশ্মীরে আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়া
সন্ত্রাসবাদী হামলায় রক্তাক্ত ভূস্বর্গ কাশ্মীর। গত মঙ্গলবারের নারকীয় হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন নিরীহ নাগরিক। এই পরিস্থিতিতে যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকাহত পরিবারের সদস্যরা তাদের পরিজনদের পাশে এসে দাঁড়াতে চাইছেন, তখন একাধিক বিমান সংস্থা বিমান ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অমানবিক আচরণে ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শ্রীনগর থেকে কলকাতার একটি সাধারণ ইকোনমি ক্লাসের বিমান টিকিটের ভাড়া সাধারণত ৭-৮ হাজার টাকা থাকে। তবে মঙ্গলবারের মর্মান্তিক ঘটনার পর সেই ভাড়া আকাশ ছুঁয়েছে। আজ সেই ভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, বিজনেস ক্লাসের টিকিটের দামও নজিরবিহীনভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকায়, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এই ভাড়া ৯-১০ হাজার টাকার আশেপাশে থাকে।
হঠাৎ করে এই অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন পর্যটকরা এবং বিশেষত সেইসব পরিবারের সদস্যরা যারা এই দুঃসময়ে তাদের আপনজনদের কাছে ছুটে যেতে চাইছেন। বিপুল পরিমাণ ভাড়া তাদের কাশ্মীর যাওয়ার পথে বড়সড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, দেশের এমন কঠিন সময়ে যেখানে সকলের উচিত সহানুভূতি ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, সেখানে কিছু বিমান সংস্থা সংকটের সুযোগ নিয়ে মুনাফা লোটার ঘৃণ্য মানসিকতা দেখাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ এবং অভিযুক্ত বিমান সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
অনেকেরই প্রশ্ন, কিভাবে একটি জাতীয় বিপর্যয়ের মুহূর্তে কিছু সংস্থা এত অসংবেদনশীল হতে পারে? এই ভাড়া বৃদ্ধির পেছনে কোনো যুক্তি নেই এবং এটি সম্পূর্ণরূপে অমানবিক।
এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মনে করা হচ্ছে, যাত্রী এবং সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মুখে অচিরেই এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পেশ করতে হবে। একইসাথে, সরকারও এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে এবং অবিলম্বে ভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য পদক্ষেপ নেবে, এমনটাই আশা করছেন সকলে। দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে মুনাফালোভী এই সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার।


