তিলোত্তমার বুকে আবারও নৃশংসতা: ছাত্রীর সম্ভ্রম লুণ্ঠিত, কাঁদছে কসবা
কলকাতা শহর, যাকে সবাই ভালোবাসার শহর বলে জানে, সেই শহরেই আবারও ঘটল এক নৃশংস ঘটনা। দক্ষিণ কলকাতার কসবায় একটি নামী আইন কলেজের রুমে, এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হল তাঁর আত্মা। এ যেন এক দুঃস্বপ্ন, যা কোনও নারীরই দেখা উচিত নয়।
বুধবার সন্ধ্যা। পড়াশোনা শেষে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ওই ছাত্রী। কিন্তু তাঁর জীবন রাতারাতি বদলে দিল কলেজেরই পরিচিত কয়েকজন। অভিযোগ, কলেজের একটি নির্জন রুমে তাঁকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় সেই বিভীষিকা। একজন তাঁকে ধর্ষণ করে, আর বাকিরা সেই কাজে সহায়তা করে।
ঘটনার পর নির্যাতিতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। হাসপাতালের করিডরে মায়ের অঝোর কান্না। "আমার মেয়েটা তো শুধু পড়তে চেয়েছিল, কী দোষ করেছিল সে?" — মায়ের এই আর্তি যেন সারা শহরকে কাঁদাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে একজন প্রাক্তন ছাত্র এবং অপর দুইজন কলেজের কর্মী। সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের সঙ্গে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি একজন অভিযুক্ত স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার আত্মীয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার পরে প্রশ্ন উঠছে— শাসক দলের এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে? বিরোধীরা সরব, “তৃণমূলের নেতারা আইনের উপর দাঁড়িয়ে আছেন। অপরাধীদের রক্ষা করতে পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে।”বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, “এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, তৃণমূল সরকার নারীদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাদের নেতাদের আশ্রয়েই এই অপরাধীরা মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে।” সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী মন্তব্য করেন, “রাজ্যে এখন আইন-শৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই। তৃণমূলের ছত্রছায়ায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”
আরজি করের নারকীয় ঘটনার পর রাজ্যের নারীরা আশা করেছিল, প্রশাসন জেগে উঠবে। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিয়ে কসবা কলেজে আরও একটি বিভীষিকার জন্ম হলো। "কোনও মেয়ে কি আর সাহস করে কলেজে যেতে পারবে?" — প্রশ্ন তুলছেন শহরের মেয়েরা।
তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়— এ কি যথেষ্ট? ন্যায়ের আশায় দিন গুনছে নির্যাতিতা। শহর উত্তাল, পথে নেমেছে অসংখ্য মানুষ। তারা বলছে, "আর নয়! এ শহরে মেয়েরা নিরাপদ হবে, আমরা নিশ্চিত করব।"
এটি শুধু একটি ঘটনা নয়; এটি একেকটি পরিবারের স্বপ্ন ভাঙার কাহিনী। আমাদের সমাজ কি আরেকবার ব্যর্থ হলো? আমরা কি এই মেয়েটির পাশে দাঁড়াতে পারব? রাজ্যের নাগরিক হিসেবে আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে, এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে লড়তে হবে। ন্যায়ের দাবিতে আওয়াজ তুলতে হবে।
আজকের দিন যেন আমরা ভুলে না যাই— কারণ এই শহরের প্রতিটি মেয়ে আমাদের পরিবারেরই সদস্য। আমাদের লড়াই তাদের জন্য।


