মুম্বই, ৩১ জুলাই, ২০২৫: ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় প্রজ্ঞা ঠাকুর এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল পুরোহিত-সহ সকল অভিযুক্তের বেকসুর খালাস পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বামপন্থী দলগুলো এই রায়কে "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" আখ্যা দিয়ে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
১৭ বছর ধরে চলা এই দীর্ঘ মামলার রায় ঘোষণার পর বাম দলগুলোর পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। তাদের বক্তব্য, এটি বিচার ব্যবস্থার উপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এই রায়ের ফলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই দুর্বল হয়ে যাবে এবং সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো আরও উৎসাহিত হবে বলে বাম নেতৃত্ব আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সিপিআই(এম) এবং সিপিআই-এর মতো প্রধান বামপন্থী দলগুলো এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তাদের যুক্তি, মামলার সময় ৩৪ জন সাক্ষী তাদের বয়ান পরিবর্তন করা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের যেভাবে বেকসুর খালাস করা হয়েছে, তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। বাম দলগুলো এই ঘটনায় একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে, যাতে প্রকৃত সত্য সামনে আসে।
বামপন্থীদের মতে, এই রায় দেশে "হিন্দু সন্ত্রাসবাদের" ধারণাটিকে আরও দৃঢ় করবে, যা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। তারা অভিযোগ করেছে যে, ক্ষমতাসীন দল এই রায়ের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়িত করতে চাইছে এবং এর ফলে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, মালেগাঁও মামলার এই রায় দেশের রাজনৈতিক বিতর্কের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাম দলগুলোর কড়া অবস্থানের কারণে এই বিতর্কের সুর আরও চড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।


