" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory মিথ্যার ফাঁদ পেতে মধ্যরাতের অপারেশন? দমদমে হকার উচ্ছেদ ঘিরে ক্ষোভ //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

মিথ্যার ফাঁদ পেতে মধ্যরাতের অপারেশন? দমদমে হকার উচ্ছেদ ঘিরে ক্ষোভ

 


নিজস্ব সংবাদদাতা, দমদম:
দমদম স্টেশন চত্বরে মধ্যরাতে হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সিপিআই(এম) ও সিটুর অভিযোগ, গরিব হকারদের বিভ্রান্ত করে রাতের অন্ধকারে বুলডোজার চালিয়ে তাঁদের জীবিকা ধ্বংস করা হয়েছে।


গত তিন দিন ধরে সিপিআই(এম) ও সিটুর কর্মীরা দফায় দফায় রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং রাত জেগে পাহারা দেন, যাতে হকারদের স্টল ভাঙা না হয়। বাম নেতৃত্বের পক্ষ থেকে রেলকে অনুরোধ করা হয়েছিল, হকারদের বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে নেওয়ার জন্য অন্তত এক মাস সময় দেওয়া হোক। কিন্তু সেই আবেদন মানা হয়নি।


শনিবার রাত প্রায় ১২টা নাগাদ রেল কর্তৃপক্ষ বিপুল পুলিশ বাহিনী নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে নামে। ক্যারেজ ওয়ের বাইরের স্টলগুলির পাশাপাশি স্টেশনের ভিতরের বহু স্টলও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।


সিপিআই(এম) নেতা সোমনাথ ভট্টাচার্য ও গার্গী চ্যাটার্জি সহ অন্যান্য নেতারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উচ্ছেদ স্থগিত রাখার আবেদন জানান। খবর পেয়ে গভীর রাতে ব্যারাকপুর থেকে ছুটে আসেন ৮৬ বছর বয়সি প্রাক্তন পাঁচবারের সাংসদ তড়িৎ তোপদার। তিনি রেল কর্তৃপক্ষের কাছে হাতজোড় করে অন্তত একদিন সময় দেওয়ার আবেদন করেন এবং জানান যে তিনি পরদিন রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করবেন। কিন্তু তাঁর আবেদনও অগ্রাহ্য করা হয় বলে অভিযোগ।


ঘটনার আরও একটি বিতর্কিত দিক সামনে এসেছে। অভিযোগ, শনিবার বিকেলে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর জানিয়েছিল যে আপাতত কোনও উচ্ছেদ অভিযান হবে না। ভিডিও বার্তার মাধ্যমেও হকারদের আশ্বস্ত করা হয়। দাবি করা হয়, বিষয়টি নিয়ে উচ্চস্তরে আলোচনা হয়েছে এবং হকারদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে। সেই আশ্বাসে ভরসা করেই অধিকাংশ হকার রাতের দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যান।


কিন্তু রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ রেল পুলিশ, রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে।

এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দেওয়া আশ্বাস কি শুধুই রাজনৈতিক নাটক ছিল? হকারদের নিশ্চিন্ত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে কি বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়া হয়েছিল? নাকি তাঁরাও আসন্ন অভিযানের ব্যাপারে অবগত ছিলেন না?


বামপন্থী সংগঠনগুলির অভিযোগ, কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষার নীতির অংশ হিসেবেই গরিব মানুষের জীবিকার উপর এই আঘাত নেমে এসেছে। পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা ছাড়া এই ধরনের উচ্ছেদকে তারা ‘অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছে।

দমদমের এই মধ্যরাতের উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। হকারদের ভবিষ্যৎ এবং পুনর্বাসনের প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর কাছেও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies