মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজায় একটি নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা ইসরায়েল এবং হামাস উভয় পক্ষই অনুমোদন করেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তির মূল বিষয় ও সময়সীমা
এই চুক্তিটি একটি বহু-পর্যায়ের শান্তি পরিকল্পনার 'প্রথম ধাপ' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর প্রধান শর্ত ও সময়সীমাগুলো হলো:
যুদ্ধবিরতি কার্যকর: ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের (৯ অক্টোবর, ২০২৫) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
আটক ও বন্দি মুক্তি: যুদ্ধবিরতি শুরুর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় হামাসের হাতে আটক ২০ জন জীবিত ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি ২৮ জন মৃত আটকের দেহাবশেষ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হবে। বিনিময়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেবে।
সেনা প্রত্যাহার: আটক মুক্তি শুরু হওয়ার আগে ইসরায়েলি বাহিনীর গাজার নির্ধারিত লাইন পর্যন্ত প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার কথা।
মাঠের পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ
আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও, গাজার কিছু এলাকায় ইসরায়েলি হামলা ও গুলির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। যদিও সহিংসতার মাত্রা হ্রাস পেয়েছে, তবে দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে গাজার মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সেখানে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি এবং ব্যাপক ধ্বংসলীলা বিরাজ করছে।
মানবিক সংকট: ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেখা গেলেও, মানবিক সহায়তা প্রবেশাধিকার এবং গাজার পুনঃর্গঠন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ: এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ সুগম করবে কিনা, তা নির্ভর করছে উভয় পক্ষের কঠোরভাবে চুক্তি মেনে চলার উপর। গাজার ভবিষ্যৎ শাসনভার এবং হামাসের নিরস্ত্র হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও রয়ে গেছে। অতীতেও উভয় পক্ষের লঙ্ঘনের কারণে একাধিক যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেতারা এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। কাতার, মিশর এবং তুরস্কের মতো আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা এই চুক্তি সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইসরায়েল এবং গাজা উভয় পক্ষেই আটক ও বন্দি পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেছেন। চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক মহল নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।


