দুর্গাপুর, ২৬শে অক্টোবর ২০২৫:
এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নিজেদের সেবাকার্যের ২৫ তম বর্ষে পদার্পণ করল দুর্গাপুর এসডি ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরাম। এই ঐতিহাসিক রজত জয়ন্তী বর্ষ (২০০১–২০২৬) উদযাপনের সূচনালগ্নে, রবিবার ২৬শে অক্টোবর, দুর্গাপুরের বিধাননগর ডিডিএ মার্কেটে এক মেগা স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে এই শিবির, যেখানে মোট ২০১ ইউনিট রক্ত সংগৃহীত হয়, যা এই শুভ সূচনার এক অনন্য নজির স্থাপন করল।
এই মহৎ শিবিরটি আয়োজিত হয়েছিল দুর্গাপুর এসডি হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি (WBVBDS)-এর সক্রিয় সহযোগিতায়। আজকের এই শিবিরটির একটি বিশেষ তাৎপর্য ছিল। এটি শুধুমাত্র ফোরামের রজত জয়ন্তী বর্ষের উদযাপনের অংশই নয়, এই শিবিরটি প্রয়াত রাজর্ষি ব্যানার্জীর স্মরণেও উৎসর্গ করা হয়। বিধাননগরের এই প্রতিভাবান যুবক কয়েক বছর আগে এক মর্মান্তিক বাইক দুর্ঘটনায় প্রয়াত হন; সেই সময় প্রচুর রক্তের প্রয়োজনেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁর স্মৃতিতেই প্রতি বছর ফোরাম এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে থাকে।
ফোরামের কার্যকরী সভাপতি, শ্রী কবি ঘোষ, এই উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বর্তমান সময়ে রক্তের জরুরি প্রয়োজনের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "দুর্গাপূজা ও কালীপূজার পর এবং ছট পূজার ঠিক আগে, এই উৎসবের মরশুমে সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে প্রায়শই রক্তের তীব্র সংকট দেখা দেয়। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী এবং অন্যান্য মুমূর্ষু রোগীদের রক্তের চাহিদা মেটানোর কথা মাথায় রেখেই আমরা আমাদের ২৫ বর্ষপূর্তির সূচনা এই মেগা ক্যাম্পের মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আজকের সংগৃহীত রক্ত সেই ঘাটতি মেটাতে অনেকটাই সাহায্য করবে।
শ্রী ঘোষ ফোরামের ২৫ বছরের দীর্ঘ যাত্রার কথা উল্লেখ করে বলেন, "দুর্গাপুর আজ দক্ষিণবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম 'মেগা হেলথ হাব' বা চিকিৎসা কেন্দ্র। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলি থেকেও বহু মানুষ এখানে চিকিৎসা করাতে আসেন। ফলে দুর্গাপুরে রক্তের চাহিদাও বিপুল। আমাদের ফোরামের প্রধান লক্ষ্যই হলো এই বিপুল চাহিদা পূরণ করা এবং দুর্গাপুরকে ১০০ শতাংশ স্বেচ্ছায় রক্তদানের উপর নির্ভরশীল রাখা, যে লক্ষ্য আমরা ২০২০ সালেই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।"
তিনি আরও যোগ করেন যে, "রক্ত কোনও পণ্য নয়, এটি মানুষের নিঃস্বার্থ দান।" এই নীতির উপর ভিত্তি করেই ফোরাম দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়েছে। ফলস্বরূপ, দুর্গাপুরের বেসরকারি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালগুলিকেও স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ করে ডোনার কার্ডের ভিত্তিতে রোগীদের পরিষেবা দিতে একপ্রকার বাধ্য করা হয়েছে, যা গোটা ভারতেই এক বিরল ঘটনা।
এদিনের শিবিরে সকাল থেকেই রক্তদাতাদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের অংশগ্রহণও ছিল অত্যন্ত লক্ষণীয়। শ্রী ঘোষ জানান, আজকের রক্তদাতার তালিকার প্রায় ৩০ শতাংশই মহিলা, যা নারী শক্তির এই মানবিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সবশেষে, কার্যকরী সভাপতি কবি ঘোষ এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করে তোলার জন্য সকল রক্তদাতা, স্বেচ্ছাসেবক, দুর্গাপুর এসডি হাসপাতাল ব্লাড সেন্টারের কর্মী এবং WBVBDS-এর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনেও "রক্তের অভাবে একটিও প্রাণহানি নয়" এই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে।
#25YearsOfHumanity #DSVBDF #WBVBDS #DonateBloodSaveLife #StopThalassemia #Durgapur #BloodDonation




















