নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রে সিপিআই(এম) তথা বামফ্রন্ট প্রার্থী প্রভাস সাঁইয়ের প্রাপ্ত ভোট (৬.৪৫%) নির্বাচনী অংকের বিচারে খুব একটা উজ্জ্বল না হলেও, এই লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট ছিল অনেক গভীরে। শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে বামেদের এবারের নির্বাচনী কৌশল এবং কর্মীদের তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রুটি-রুজির প্রশ্নে প্রচারের অভিমুখ
এবারের নির্বাচনে সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে প্রধানত 'শিল্প বাঁচাও, কর্মসংস্থান দাও'—এই দাবিকেই সামনে রাখা হয়েছিল। প্রভাস সাঁইয়ের প্রচারে বড় বড় জনসভার চেয়েও জোর দেওয়া হয়েছিল ছোট ছোট পথসভা এবং পাড়ায় পাড়ায় সংযোগ বৃদ্ধিতে।
বন্ধ কারখানা ও শিল্পাঞ্চলের সংকট: প্রচারের বড় অংশ জুড়ে ছিল বন্ধ কারখানা খোলা এবং দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার বিলগ্নিকরণ রুখতে বামেদের দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস।
কর্মসংস্থানের দাবি: তৃণমূল ও বিজেপির দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝখানে কর্মসংস্থানকেই প্রধান নির্বাচনী হাতিয়ার করেছিল বামফ্রন্ট। তাদের ইস্তেহারের 'নেতাজি সুভাষ যুব সেবক প্রকল্প'-এর আওতায় বেকারদের কর্মসংস্থানের দাবিটি মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
মেরুকরণের রাজনীতি বনাম বিকল্প পথ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গাপুর পশ্চিমে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে যে তীব্র মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রভাস সাঁইয়ের ভোটব্যাঙ্কে। তবে সিপিআই(এম) কর্মীদের দাবি, ভোটের হার কমলেও মানুষের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণ আর অন্যদিকে শাসক দলের 'জনমোহিনী' প্রকল্পের চাপে মানুষের প্রকৃত দাবিগুলো নির্বাচনে ঢাকা পড়ে গিয়েছে।
বাম সমর্থকদের মনোভাব: আগামী লড়াইয়ের প্রস্তুতি
ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর স্থানীয় বাম সমর্থকদের মধ্যে হতাশা থাকলেও, একটা বড় অংশ মনে করছেন যে তাঁরা মূল ধারার দাবিতে অবিচল থেকেছেন। তাঁদের বক্তব্য:
নির্বাচনী ফলে জয় না আসলেও, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বামপন্থীদের বিকল্প নেই।
তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে প্রভাস সাঁইয়ের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি দলের সম্পদ হিসেবে কাজ করেছে।
দুর্গাপুর পশ্চিমের নির্বাচনী লড়াই আসলে ছিল বামেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার এবং নীতিগত অবস্থানে অনড় থাকার এক কঠিন পরীক্ষা। ভোট শতাংশ মাত্র ৬.৪৫-এ থমকে গেলেও, বাম শিবিরের দাবি—শিল্পাঞ্চলের সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির লড়াই রাজপথ থেকে সংসদ, সব জায়গাতেই জারি থাকবে। ২০২৬-এর এই ফলকে তাঁরা পরাজয় হিসেবে না দেখে আগামী আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবেই দেখছেন।


