নিউ ইয়র্ক, ২৯ নভেম্বর, ১৮৭৭: বিজ্ঞান দুনিয়ায় আজ এক অভূতপূর্ব বিস্ময়ের জন্ম হলো। বিখ্যাত উদ্ভাবক থমাস আলভা এডিসন জনসমক্ষে এমন একটি যন্ত্র প্রদর্শন করেছেন যা মানুষের কণ্ঠস্বর হুবহু রেকর্ড করতে এবং পুনরায় শোনাতে সক্ষম। ‘ফনোগ্রাফ’ নামের এই যন্ত্রটি আজ নিউ ইয়র্কে ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’-এর অফিসে প্রদর্শিত হয়, যা উপস্থিত দর্শক ও বিজ্ঞানীদের হতবাক করে দিয়েছে।
টেলিগ্রাফ এবং টেলিফোন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় এডিসন এই যুগান্তকারী যন্ত্রটির ধারণা পান। গত ২১ নভেম্বর তিনি এই আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করেছিলেন, তবে আজই প্রথম তিনি এটি জনসমক্ষে প্রদর্শন করলেন।
কেমন ছিল সেই মুহূর্ত?
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, যন্ত্রটিতে টিনের ফয়েল (tinfoil) মোড়ানো একটি ঘূর্ণায়মান সিলিন্ডার ছিল। এডিসন যন্ত্রটির মাউথপিসের সামনে দাঁড়িয়ে বিখ্যাত শিশুতোষ ছড়া "মেরি হ্যাড আ লিটল ল্যাম্ব" (Mary Had a Little Lamb) আবৃত্তি করেন। এরপর যখন তিনি যন্ত্রটি চালু করেন, তখন সেই সিলিন্ডার থেকে এডিসনের কণ্ঠস্বর হুবহু ভেসে আসে। যন্ত্রটি কথা বলছে—এমন দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই নিজেদের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
যন্ত্রের কার্যপ্রণালী
ফনোগ্রাফের কার্যপদ্ধতি বেশ অভিনব। এতে একটি ডায়াফ্রামের সঙ্গে যুক্ত সূচ বা স্টাইলাস ব্যবহার করা হয়েছে। কথা বলার সময় সৃষ্ট শব্দের কম্পন স্টাইলাসের মাধ্যমে ঘূর্ণায়মান টিনের ফয়েলে খাঁজ বা দাগ কেটে শব্দ রেকর্ড করে। পরবর্তীতে সেই খাঁজগুলোর ওপর দিয়ে পুনরায় স্টাইলাসটি চালানো হলে ডায়াফ্রামটি কেঁপে ওঠে এবং শব্দ পুনরুৎপাদিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এই যন্ত্রটি হাতে ঘুরিয়ে (hand-cranked) চালাতে হয়।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এডিসনের এই আবিষ্কার শব্দ রেকর্ডিংয়ের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। সংগীত সংরক্ষণ, কথা রেকর্ড করা এবং বিনোদন জগতে এই যন্ত্র অদূর ভবিষ্যতে এক বিশাল বিপ্লব নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।