" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory দুর্গাপুরের শিল্প ও আবাসন বাঁচাতে 'লাল ঝান্ডা'র লড়াইই একমাত্র পথ: 'বাংলা বাঁচাও' যাত্রায় গর্জে উঠলেন আভাস রায়চৌধুরী //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

দুর্গাপুরের শিল্প ও আবাসন বাঁচাতে 'লাল ঝান্ডা'র লড়াইই একমাত্র পথ: 'বাংলা বাঁচাও' যাত্রায় গর্জে উঠলেন আভাস রায়চৌধুরী

  


দুর্গাপুর, ১৫ ডিসেম্বর:

একদা যাকে বলা হতো ‘ভারতের রূঢ়’, সেই দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল আজ ধুঁকছে। কারখানার চিমনি দিয়ে আর আগের মতো ধোঁয়া বেরোয় না, শ্রমিক কলোনিগুলোতে নেমে এসেছে উচ্ছেদের আতঙ্ক। এই প্রেক্ষাপটেই গতকাল দুর্গাপুরে চন্ডীদাসে  ‘বাংলা বাঁচাও’ যাত্রার এক বিশাল জনসভায় শিল্প ও মানুষের অধিকার রক্ষার ডাক দিলেন বর্ষীয়ান বামনেতা ও সিআইটিইউ (CITU) নেতৃত্ব আভাস রায়চৌধুরী। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ‘জনবিরোধী’ নীতির বিরুদ্ধে তিনি এক দীর্ঘ ও তথ্যসমৃদ্ধ চার্জশিট পেশ করেন।



এক নজরে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন:


১. শিল্পের শ্মশান ও মোদীর ‘বাবুল’ প্রতিশ্রুতি: কীভাবে হিন্দুস্থান কেবলস ও সিএলডব্লিউ-এর মতো লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।

২. আবাসন সংকট ও মানবাধিকার: দুর্গাপুর স্টিল সিটির প্রবীণ নাগরিক ও বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে মানবিক আবেদন।

৩. রাজ্য সরকারের ভূমিকা: গত ১৪ বছরে রাজ্যে নতুন শিল্পের আকাল ও সিন্ডিকেট রাজের সমালোচনা।

৪. ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শ্রমিক ঐক্যের ডাক।



‘ভারতের রূঢ়’ থেকে আজকের রুগ্ন শিল্পাঞ্চল


ভাষণের শুরুতেই আবেগঘন কণ্ঠে আভাস রায়চৌধুরী মনে করিয়ে দেন এই অঞ্চলের গরিমানময় ইতিহাসের কথা। জার্মানির শিল্পসমৃদ্ধ রূঢ় অঞ্চলের সঙ্গে একসময় তুলনা করা হতো বর্ধমানের এই শিল্পাঞ্চলকে। মাটির নিচে কয়লা আর ওপরে সারি সারি কারখানা—এই ছিল দুর্গাপুর-আসানসোলের পরিচয়। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৯১ পরবর্তী উদারীকরণ এবং বিশেষ করে গত এক দশকে কেন্দ্র ও রাজ্যের ভুল নীতির কারণে এই গর্বের ইতিহাস আজ ধুলোয় মিশতে চলেছে।



হিন্দুস্থান কেবলস ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ


কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “সেদিন আসানসোলের পোলো ময়দানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, ‘মুঝে বাবুল দিজিয়ে, সবকুছ হো যায়েগা’। মানুষ তাঁকে বিশ্বাস করে বাবুল সুপ্রিয়কে জিতিয়েছিল। কিন্তু প্রতিদান হিসেবে কী পেল আসানসোল? হিন্দুস্থান কেবলস কারখানার গেটে ঝুলল বড় তালা।” আজ সাড়ে এগারোশো একর জমি পড়ে আছে, কারখানার আবাসনগুলো খণ্ডহরে পরিণত হয়েছে—এই চিত্র তুলে ধরে তিনি কেন্দ্রের ‘গদ্দারির’ অভিযোগ করেন।


সিএলডব্লিউ (CLW): এশিয়ার সেরা থেকে অ্যাসেম্বলিং শপ?


চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস (CLW) বা রেল ইঞ্জিন কারখানার বর্তমান দশা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি মনে করিয়ে দেন, একসময় সিএলডব্লিউ-এর শ্রমিকরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিদেশী কোম্পানির চেয়েও কম খরচে ৯,০০০-এর বেশি হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন তৈরি করে দেখিয়েছিলেন। কিন্তু আজ সেই গর্বের কারখানাকে কার্যত একটি ‘অ্যাসেম্বলিং ওয়ার্কশপ’-এ পরিণত করা হয়েছে। রেলের বরাত কমিয়ে দিয়ে কারখানাকে ধুঁকিয়ে মারার চক্রান্ত চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।



আবাসন সংকট: প্রবীণদের ছাদ কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত


বক্তৃতার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর আবাসন সমস্যা। আভাস বাবু অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলে ধরেন অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের দুর্দশার কথা। তিনি বলেন, “যাঁরা যৌবনে ঘাম ঝরিয়ে এই ইস্পাত কারখানা গড়ে তুলেছেন, আজ বার্ধক্যে পৌঁছে আইনি জটিলতার অজুহাতে তাঁদের মাথার ছাদ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।” এর পাশাপাশি তিনি শহরের বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের দাবিও জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার। পুনর্বাসন ছাড়া কোনো উচ্ছেদ মেনে নেবে না লাল ঝান্ডা।”




রাজ্য সরকার: রিমোট কন্ট্রোলে শৌচালয়, কিন্তু কারখানা কই?


তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারের দিকেও সমালোচনার তীর ছুড়ে দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গত ১৪ বছরে রাজ্যে বা এই জেলায় নতুন কোনো বড় শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়নি। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী রিমোট কন্ট্রোলে পাড়ার শৌচালয় উদ্বোধন করেন, কিন্তু একটি নতুন কারখানার ফিতে কাটতে পারেন না।” উল্টে সিন্ডিকেট রাজ এবং তোলাবাজির দাপটে ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলো আজ রুগ্ন হয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।


ঐক্যের পথেই মুক্তি


বিজেপি ও তৃণমূলের সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে সতর্ক করে তিনি বলেন, “বেকারত্বের কোনো ধর্ম হয় না। পেটের খিদের জ্বালা হিন্দু-মুসলমান বা বাঙালি-অবাঙালির এক।” ভাষণের শেষে তিনি সমবেত শ্রমিক, কৃষক ও যুবসমাজকে আহ্বান জানান, হারানো গৌরব ফিরে পেতে এবং রুটি-রুজির অধিকার রক্ষা করতে রাস্তায় নেমে লড়াই ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

‘বাংলা বাঁচাও’ যাত্রার এই জনসভায় উপচে পড়া ভিড় এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া প্রমাণ করে যে, শিল্পাঞ্চলের মানুষ তাঁদের হৃত অধিকার ফিরে পেতে নতুন করে সংঘবদ্ধ হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।


ট্যাগ: #BanglaBachaoJatra #DurgapurNews #AbhasRoyChoudhury #CPIM #IndustrialCrisis #SaveIndustry #WestBengalPolitics #CITU

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies