মস্কো: ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে ১৯৯৯ সালে যুগোস্লাভিয়ার ওপর ন্যাটোর (NATO) আগ্রাসনের সাথে তুলনা করেছেন সার্বিয়ার সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আলেকজান্ডার ভুলিন। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা 'তাস' (TASS)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ভুলিনের মতে, ওয়াশিংটন এখন ভেনেজুয়েলায় সেই একই কৌশলের পুনরাবৃত্তি করছে যা তারা কয়েক দশক আগে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল।
আন্তর্জাতিক আইনের মৃত্যু ও পরমাণু অস্ত্রের গুরুত্ব
ভুলিন বলেন, ১৯৯৯ সালে যুগোস্লাভিয়ার ওপর মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসন মূলত "সার্বিয়াকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্তু তার পরিবর্তে সেটি আন্তর্জাতিক আইনকেই হত্যা করেছে।" তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতিসংঘভুক্ত একটি রাষ্ট্রে বোমা হামলা চালানো এবং তার প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করার মতো ঘটনাগুলো সেইসব দেশগুলোর জন্য একটি চরম সতর্কবার্তা, যাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই।
তার মতে, এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশগুলোর সামনে কেবল দুটি পথ খোলা রয়েছে:
নিজেদের সামরিক শক্তি এতটাই বৃদ্ধি করা যাতে তাদের ওপর আক্রমণ করা শত্রুর জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়।
অথবা সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন নীতি বিসর্জন দিয়ে অন্যের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকা।
"ভয়ের জোট" বনাম নতুন বিশ্বব্যবস্থা
আলেকজান্ডার ভুলিন রাশিয়ার ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন, মস্কোকে অবশ্যই একটি নতুন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, যদি রাশিয়া এতে সফল না হয়, তবে ভবিষ্যতে একটি পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন "ভয়ের জোট" (Coalition of Fear) তৈরি হবে।
এই জোটে এমন সব রাষ্ট্র থাকবে যারা যুগোস্লাভিয়া বা ভেনেজুয়েলার মতো পরিণতি এড়াতে শর্তহীনভাবে পশ্চিমা আদেশ মেনে চলবে—এমনকি প্রয়োজনে রাশিয়া বা চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতেও দ্বিধা করবে না।
সার্বিয়ার করণীয় সম্পর্কে ভুলিন
সার্বিয়ার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে ভুলিন বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন:
সামরিক নিরপেক্ষতা: কোনো জোটে না গিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা।
বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা: দেশে পুনরায় কনস্ক্রিপশন বা বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালু করা।
অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তোলা: অর্থনৈতিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত সামরিক বাহিনীকে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করা।
ভুলিন তার বক্তব্যের শেষে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন:
"অস্ত্রের দাম তখনই সবচেয়ে বেশি মনে হয়, যখন প্রয়োজনে সেগুলো হাতে থাকে না।"


