তিরুচিরাপল্লী, ১ জানুয়ারি, ২০২৬: ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা ছোঁয়া মাত্রই এক নতুন উন্মাদনায় মেতে উঠল তিরুচিরাপল্লী। শহরের অন্যতম প্রধান নিদর্শন ঐতিহাসিক কাবেরী নদী সেতু (Cauvery Bridge) মুহূর্তেই রূপান্তরিত হলো এক আনন্দমুখর উৎসবে। কোনো পূর্বনির্ধারিত বা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ছাড়াই কেবল স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২০২৬ সালকে এক বর্ণিল ও প্রাণবন্ত অভ্যর্থনা জানানো হলো।
স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ ও ‘সুপার ভাইব’
পুরানো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণ করতে মধ্যরাতে কাবেরী ব্রিজের ওপর জড়ো হন শয়ে শয়ে মানুষ। আতশবাজির রোশনাই আর মুহুর্মুহু শব্দে নদীর শান্ত জলরাশিও যেন জেগে ওঠে। উপস্থিত জনতা এই পরিবেশকে এক কথায় "সুপার ভাইব" বলে বর্ণনা করেছেন। কোনো বড় ইভেন্ট বা ডিজে না থাকলেও, ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাইকের মিউজিক সিস্টেমের তালে তাল মিলিয়ে নেচে-গেয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে পরিবার-পরিজনরা।
শহর ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
ব্রিটিশ আমলের এই ঐতিহ্যবাহী সেতুটি ত্রিশি মূল শহরকে শ্রীরাঙ্গাম দ্বীপের সাথে যুক্ত করেছে। বছরের শেষ রাতে এটি আবারও প্রমাণ করল যে, কেন এটি স্থানীয়দের কাছে এক আবেগপূর্ণ মিলনস্থল। পথচারী ও দর্শকদের ভিড়ে সেতুর ওপর তিল ধারণের জায়গা ছিল না। হাসি, আড্ডা আর আতশবাজির ঝলকানি রাতের আকাশকে করে তুলেছিল মায়াবী।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা
গত কয়েক বছর ধরেই কাবেরী ব্রিজে এমন স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত একটি প্রথায় পরিণত হয়েছে। ভিড় সামলাতে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করেছিল। পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় উৎসবের মেজাজ বজায় রেখে ভোরে পর্যন্ত চলে এই আনন্দ।
তামিলনাড়ুর এই প্রাণকেন্দ্র থেকে নতুন বছরের যে শুভ সূচনা হলো, তা একতা এবং উৎসবের চিরন্তন স্পিরিটকেই তুলে ধরছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রভাতে তিরুচিরাপল্লীর বাসিন্দাদের চোখেমুখে ছিল কেবলই নতুন আশার আলো।

.jpg)
