নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: একদিকে খেলার মাঠের জেদ, অন্যদিকে শ্রমিকের অধিকার রক্ষার লড়াই—এই দুই মেজাজেই বর্তমানে তপ্ত দুর্গাপুর। স্টিল প্ল্যান্টস স্পোর্টস বোর্ড (SPSB) আয়োজিত আন্তঃ-ইস্পাত ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে এসে শ্রমিক আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়ালেন সালেম স্টিল প্ল্যান্টের সিআইটিইউ (CITU) সাধারণ সম্পাদক সুরেশ কুমার।
বুধবার দুর্গাপুরের চিত্তব্রত মজুমদার হলে সিআইটিইউ ‘বিহিক’ শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে আয়োজিত এক বিশেষ কনভেনশনে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রমিক-বিরোধী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী শিল্প ধর্মঘটকে সফল করার আহ্বান জানিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
বক্তব্যের মূল সুর: "শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা"
সুরেশ কুমার তাঁর বক্তব্যে সরাসরি তোপ দাগেন কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে। তিনি বলেন:
> "ওয়েজ কোড বিলের আড়ালে বর্তমান সরকার দেশের শ্রমিক শ্রেণির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। যে অধিকারগুলো শ্রমিকরা দশকের পর দশক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জন করেছিলেন, আজ তা পরিকল্পিতভাবে হরণ করা হচ্ছে।"
>
তিনি আরও যোগ করেন যে, ঠিকা শ্রমিকদের অবস্থা আজ অত্যন্ত শোচনীয়। তাঁদের মৌলিক সামাজিক সুরক্ষা কেড়ে নিয়ে কার্যত আধুনিক 'দাস প্রথা'র দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই শোষণের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও ঠিকা—উভয় স্তরের ইস্পাত শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
এক নজরে কনভেনশনের মূল পয়েন্টগুলি:
* ১২ই ফেব্রুয়ারির গুরুত্ব: এই ধর্মঘট কেবল একটি প্রতিবাদ নয়, বরং শ্রমিকদের অস্তিত্ব রক্ষার চূড়ান্ত লড়াই।
* অধিকার হরণ: কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত শ্রম বিধি (Labour Codes) শ্রমিকদের আইনি রক্ষাকবচ কেড়ে নেওয়ার নামান্তর।
* ঐক্যের ডাক: দুর্গাপুরের মাটি থেকেই এই সংগ্রামের বার্তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
সভায় স্টিল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার (SWFI) সাধারণ সম্পাদক ললিত মোহন মিশ্র বলেন, "ধর্মঘটই এখন মেহনতি মানুষের একমাত্র অস্ত্র।" সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউসিডব্লিউইউ (UCWU) সম্পাদক নিমাই ঘোষ। বক্তারা প্রত্যেকেই ইস্পাত শিল্পের ভবিষ্যৎ এবং ঠিকা শ্রমিকদের স্থায়ীকরণের দাবিতে সরব হন।






