ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের বিমা খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। বিমা কোম্পানিগুলো এই অঞ্চলকে 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করায় প্রিমিয়ামের হার এক লাফে অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রুপিতে বিমা খরচের হিসাব
সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, জাহাজের বিমা প্রিমিয়াম ০.২৫% থেকে বেড়ে ৩% পর্যন্ত পৌঁছেছে। ভারতীয় মুদ্রায় এর প্রভাব নিচে দেওয়া হলো:
বিমা খরচ বৃদ্ধি: আগে একটি প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার ($100M) জাহাজের বিমা খরচ ছিল প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ($125K)। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকায় ($200K+ যা এখন কয়েক মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে)। অর্থাৎ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিমা খরচ ১০ গুণ থেকে ১২ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিপিং চার্জ: সুপারট্যাঙ্কারের দৈনিক ভাড়া এখন প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ($423,000/day) ছাড়িয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
ভারতীয় অর্থনীতির ওপর প্রভাব
ভারত তার মোট তেলের আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিয়ে আসে। বিমা খরচ বাড়ায় ভারতীয় অর্থনীতিতে নিম্নলিখিত প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে:
তেলের বাড়তি বিল: বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০ ডলার বাড়লে ভারতের বার্ষিক তেলের আমদানির বিল প্রায় ১,১০,০০০ কোটি টাকা (১৩-১৪ বিলিয়ন ডলার) বেড়ে যেতে পারে।
পরিবহন খরচ: এই রুট দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যের পরিবহন খরচ প্রায় ৫০% পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি: তেলের দাম ও বিমা খরচ বাড়লে পেট্রোল-ডিজেলের দাম এবং সেই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ভারতে বাড়তে পারে।
ভারতের সরকারি পদক্ষেপ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকার রপ্তানিকারক ও শিপিং সংস্থাগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিমা কভারেজ সংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছে যাতে ভারতীয় জাহাজগুলো নিরাপদে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে যাতায়াত করতে পারে।


