আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুসংহত করার লক্ষ্যে কিউবার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বর্ষ’ (Year of Defense Preparation) শুরু করেছে। গত ১২ জানুয়ারি কিউবার পশ্চিম, মধ্য এবং পূর্ব—এই তিনটি প্রধান সামরিক জোনে পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ ও মহড়া কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
কৌশলগত প্রস্তুতি ও সামরিক শপথ
কিউবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য যেকোনো বৈদেশিক প্রতিকূলতা বা আগ্রাসন মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক সক্ষমতা যাচাই করা। পশ্চিম সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা মাতৃভূমির অখণ্ডতা বজায় রাখার শপথ গ্রহণ করেন।
আঞ্চলিক নেতৃত্বের বিশেষ উপস্থিতি
পূর্বাঞ্চলীয় সেনাবাহিনীর প্রধান, মেজর জেনারেল ইউজেনিও আরমান্দো রাবিলেরো আগিলেরা ওলগিন প্রদেশে আয়োজিত মহড়ার নেতৃত্ব দেন। এই অনুষ্ঠানে প্রাদেশিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। মধ্য সেনাবাহিনীর আয়োজনে তরুণ সেনাদের উন্নত প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং রাজনৈতিক আদর্শের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বীকৃতি ও আদর্শিক সংহতি
নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বেশ কিছু কর্মকর্তাকে ‘বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী পদক’-এ ভূষিত করা হয়। এছাড়া, সামরিক বাহিনীর ভেতর রাজনৈতিক আদর্শিক ঐক্য বজায় রাখতে একদল তরুণ সেনাকে কমিউনিস্ট পার্টি ও ইয়ুথ লিগের সদস্যপদ প্রদান করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা দর্শনের পুনরুল্লেখ
এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কিউবার প্রথাগত সামরিক কৌশল ‘জনযুদ্ধ’ (War of the People) ডকট্রিনের ওপর আলোকপাত করা হয়। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কিউবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেবল সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং সাধারণ জনগণ ও সেনাবাহিনীর সম্মিলিত প্রতিরোধের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।


