নিজস্ব প্রতিনিধি, কোলার: একদিকে সাজানো আমবাগান, অন্যদিকে রক্ত জল করা পরিশ্রমে গড়ে তোলা সোনার ফসল—সবই এখন মাটিতে লুটিয়ে আছে। কর্নাটকের কোলার জেলার শ্রীনিবাসপুর তালুকের আকাশ আজ বাতাসে ভেসে আসা কান্নার আওয়াজে ভারী। যে জমিতে দেড়শ বছর ধরে চাষবাস করে আসছেন হাজার হাজার কৃষক পরিবার, আজ সেই জমি থেকেই তাদের উচ্ছেদ করতে উদ্যত হয়েছে বন দপ্তর। অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভা (AIKS) এই অমানবিক উচ্ছেদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই ধ্বংসলীলা বন্ধের দাবি তুলেছে।
এক কলমের খোঁচায় নিঃস্ব ১৫ হাজার পরিবার অভিযোগ উঠেছে, শ্রীনিবাসপুর তালুকের ৪২,০০০ একর জমি কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই রাতারাতি রাজস্ব দপ্তরের রেকর্ড থেকে মুছে দিয়ে বন দপ্তরের নামে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ১৯১০ সালে মহীশূরের মহারাজা এই জমি বন সংরক্ষণের জন্য দিয়েছিলেন—এই অদ্ভুত যুক্তিতে ১১০ বছর পর ২০২০ সালে জেগে উঠেছে বন দপ্তর। অথচ এই কৃষকদের কাছে বৈধ বিক্রয় দলিল ও সমস্ত সরকারি নথি থাকা সত্ত্বেও তাদের কথা কেউ শুনছে না।
জেসিবি-র নিচে পিষ্ট কৃষকের আজন্মের শ্রম ২০২৩ সালের অগাস্ট মাসে এই এলাকায় নেমে আসে বিভীষিকা। ৭০টি জেসিবি আর বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রশাসন। চোখের সামনে কেটে ফেলা হয় লক্ষাধিক ফলন্ত আমগাছ। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় প্যাকিং শেড এবং অসংখ্য বোরওয়েল।
চৌধারেড্ডি নামে এক বৃদ্ধ কৃষকের ৩০০টি ফলন্ত আমগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যে গাছগুলোকে তিনি নিজের সন্তানের মতো বড় করেছিলেন, আজ সেগুলো শুধুই মৃত কাঠের স্তূপ। বাধা দিতে গিয়ে ভেঙ্কটলক্ষ্মাম্মা নামের এক মহিলা কৃষককে এতটাই নিষ্ঠুরভাবে মারধর করা হয়েছে যে তিনি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন।
গ্রামের অস্তিত্বই এখন বিপন্ন কেবল ফসলি জমি নয়, বন দপ্তরের দখলদারির তালিকায় রয়েছে স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, মন্দির এবং শ্মশানও। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা বসতবাড়িগুলোও এখন উচ্ছেদের অপেক্ষায়। কৃষকদের অভিযোগ, বন দপ্তর এলাকায় পিলার পুঁতে দিচ্ছে, যা আসলে তাদের ভিটেমাটি থেকে চিরতরে মুছে দেওয়ার প্রস্তুতি।
পাশে দাঁড়াল সারা ভারত কিষাণ সভা সম্প্রতি অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভার সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পাতাপল্লী, ডোড্ডামালাডোড্ডি ও শিবপুরার মতো ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো পরিদর্শন করেন। কৃষকদের হাত ধরে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এই লড়াইয়ে তারা একা নন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সহ-সভাপতি এস.কে. প্রীজা, ভালসান পানোলি এবং কর্নাটক প্রান্ত রাইতা সংঘের নেতারা।
বিজু কৃষ্ণান বলেন, "এটি শুধু জমি কেড়ে নেওয়া নয়, এটি ১৫,০০০ পরিবারের জীবিকা এবং তাদের ভবিষ্যৎ খুন করা। আমরা এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।"





